৪৫ বছর পর ফাঁসির দড়িতে ঝুলল বঙ্গবন্ধুর অন্যতম হত্যাকারী আবদুল মাজেদ

0

ঢাকা: গণহত্যার প্রায় সাড়ে চার দশক পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলায় জড়িত থাকা বাংলাদেশ প্রাক্তন সামরিক অধিনায়কের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা করেছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, আবদুল মাজেদকে শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১২.০১ মিনিটে ফাঁসি দেওয়া হয়।

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন আধিকারিক জানিয়েছেন, ১২.১৫ মিনিটে একজন চিকিৎসক মাজেদকে মৃত ঘোষণা করেন। জেলের সামনে সাংবাদিকদের এক বিবৃতিতে জেলের পরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মোস্তফা কামাল পাশা বলেছেন, মৃতদেহ সৎকারের জন্য আবদুল মাজেদের মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আইনের সঙ্গে যুক্ত মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেছেন, দু’বছর আগে কেরানীগঞ্জে সদ্য নির্মিত ভবনটিতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরিত হওয়ার পর আবদুল মাজেদের ফাঁসি প্রথম হল।

কিছুদিন আগেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন করা হয় বাংলাদেশে। তারপরই তাঁর খুনের সঙ্গে জড়িত থেকে অন্যতম হত্যাকারীর ফাঁসি হল। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে খুন হন। খুনিদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিলেন আবদুল মাজেদ। জিয়াউর রহমানের আমলে মুজিবুর রহমানের খুনিদের বিচারে বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামি লিগ ক্ষমতায় আসার পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আইনি ক্রিয়াকলাপ শুরু করে। এখনও পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে মৃ্ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে ৬ জনের সাজা কার্যকর হল।

ঢাকা পুলিশ দাবি করেছে যে, বিপদ বুঝে আবদুল মাজেদ বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসে। অনেকদিন পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গে গা-ঢাকা দিয়ে ছিলেন বলেই বাংলাদেশ পুলিশ দাবি করেছে। আবদুল মাজেদ এক সময় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্তা ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল। তারপরই তার ফাঁসি কার্যকর করা হল।