বাংলা সাহিত্যের কাব্য ভুবনের অনন্য কবি নির্মলেন্দু গুণের জন্মদিন

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাংলাদেশ: বাংলা সাহিত্যের কাব্য ভুবনের অনন্য এক কবি নির্মলেন্দু গুণ। আজ কবি’র জন্মদিন। ১৯৪৫ সালে আজকের দিনে বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা থানার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ব এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলা ভাষায় রচিত কবিতাগুলোর প্রধান দিকপালদের মধ্যে অন্যতম কবি নির্মলেন্দু গুণ। ১৯৬২ সালে দুই বিষয়ে লেটারসহ প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করেন গুণ। মেট্রিক পরীক্ষার আগেই নেত্রকোণা থেকে প্রকাশিত ‘উত্তর আকাশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণের প্রথম কবিতা ‘নতুন কান্ডারী’।

আই.এস.সি পড়েন ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে। ১৯৬৪ সালের আই.এস.সি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের ১১৯ জন প্রথম বিভাগ অর্জনকারীর মাঝে তিনি ছিলেন একজন। নির্মলেন্দু গুণের কবিতায় মূলত নারীপ্রেম, শ্রেণি-সংগ্রাম এবং স্বৈরাচার বিরোধিতা, এ-বিষয়সমূহ প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৭০ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রেমাংশুর রক্ত চাই প্রকাশিত হওয়ার পর জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এ-গ্রন্থের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা হুলিয়া কবিতাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং পরবর্তীতে এর উপর ভিত্তি করে তানভীর মোকাম্মেল একটি পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এছাড়াও তার স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো কবিতাটি দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে পাঠ্য।

তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে অন্যতম হল ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’, ‘কবিতা, অমীমাংসিত রমণী’, ‘দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী’, ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’, ‘তার আগে চাই সমাজতন্ত্র’, ‘দূর হ দুঃশাসন’, ‘চিরকালের বাঁশি’, ‘দুঃখ করো না, বাঁচো’, ‘আনন্দ উদ্যান’, ‘পঞ্চাশ সহস বর্ষ’, ‘প্রিয় নারী হারানো কবিতা’, ‘শিয়রে বাংলাদেশ’, ‘ইয়াহিয়াকাল’, ‘আমি সময়কে জন্মাতে দেখেছি’, ‘বাৎস্যায়ন’, ‘রক্ষা করো ভৈরব’ ইত্যাদি। এ ছাড়া লিখেছেন ‘সোনার কুঠার’ নামের একটি ছড়াগ্রন্থ। ‘আমার ছেলেবেলা’, ‘আমার কণ্ঠস্বর’ ও ‘আত্মকথা ৭১’ শিরোনামে রয়েছে তিনটি আত্মজৈবনিক গ্রন্থ। কবি ১৯৮২ সালে বাংলা অ্যাকাডেমি , ২০০১ সালে একুশে পদক এবং ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পদক অর্জন করেন।