বিপুল আর্থিক ঘাটতি কেন্দ্রের, অর্থনীতি সামলাতে দিশেহারা মোদী সরকার

0
indian economy

নয়াদিল্লি : করোনা সংক্রমণের পর থেকেই দেশজুড়ে চার মাস ধরে চলেছে দীর্ঘ লকডাউন। লকডাউনের কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক অবস্থা ক্রমশ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সেই সঙ্গে গোটা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমাগত জটিল হয়েছে। আবার মহামারী নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সরকারের খরচ বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক ঘাটতি ক্রমাগত বাড়ছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৬ লক্ষ ৬২ হাজার কোটি টাকা। ২০২০-২১ আর্থিক বছরে সরকারের আর্থিক ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়। প্রথম তিন মাসেই তার ৮৩.২ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। যা এখনও রেকর্ড।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুসারে চলতি বছরে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৫.৮ শতাংশ কমতে পারে। জটিল পরিস্থিতিতে আরো খারাপ হয়ে গিয়ে ৯.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। রয়টার্সের আশঙ্কার কথা মিলে গেলে ১৯৭৯ সালের পর ভারতীয় অর্থনীতিকে কখনোই এতটা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়নি। শুক্রবার প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী জ্বালানির ওপর উল্লেখযোগ্য কর বৃদ্ধি করা হলেও জুন ত্রৈমাসিকে সরকারের আয় কমেছে। এপ্রিল থেকে জুন মাসে কর বাবদ সরকারি কোষাগারে ঢুকেছে মাত্র ১ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তুলনায় যা ৪৬ শতাংশ কম।

কেন্দ্রীয় সরকার খরচ বাঁচাতে রাজ্য সরকারগুলোকে পাঠানো জিএসটি কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি আর্থিক বছরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির সাড়ে ৩ শতাংশের মধ্যে বেঁধে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। যদিও অর্থনীতিবিদদের মতে সরকারের পক্ষে এই টার্গেট পূরণ করা কঠিন। এই পরিস্থিতিতে আয় বাড়াতে আরও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেসরকারিকরণের পথেই হাঁটবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here