কোনোভাবেই সংবাদপত্র থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

0

কলকাতা: ইতিমধ্যেই করোনা আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গিয়েছে সংবাদপত্রের বিতরণ। প্রিন্ট হলেও মানুষজন কারো হাত থেকে সেই সংবাদপত্র কিনতে নারাজ। যদি তার থেকে করোনা আসে? সংবাদপত্রকে তো আর সাবান জলে ধোয়া সম্ভব নয়! কাগজ থেকে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ, এই ভয়ে খবরের কাগজ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন বেশ কিছু মানুষ।

একজন হকার জানান, “আমাদের অধিকাংশ ক্রেতা কাগজ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ তাঁদের মনে হয় যে ‘কাগজ’ ভাইরাসকে বহন করে বাড়িতে নিয়ে যায়। এমনকি বেশকিছু অঞ্চল আছে যেখানে আমাদের প্রবেশ একেবারে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

এবার সংবাদপত্র থেকে করোনা ছড়ানোর খবর পুরোটাই গুজব বলে সাফ জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। তিনি জানান, খবরের কাগজ থেকে একেবারেই করোনা ভাইরাস ছড়ায় না। বরং সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য সংবাদপত্র মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় অঙ্গের মধ্যে পড়ে।

পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের অনেক জায়গাতেই সংবাদপত্র বিলি ব্যবস্থায় বাধা আসছে। করোনার ভয়ে খবরের কাগজ বিলি করতে চাইছেন না হকাররা। এমনকি অনেক অঞ্চলে সংবাদপত্র ঢুকতে বারণও করে দেওয়া হয়েছে। এই দু’টি তথ্যকেই ‘গুজব ও ভুল ধারণার ফল’ বলে জানিয়েছেন জাভড়েকর।বুধবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে মোদী সরকারের তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, “আমার বাড়িতে কাগজ না আসায় খোঁজ করে জানতে পারলাম, সংবাদপত্রে হাত দিলে কী হবে, তা নিয়ে ভয় তৈরি হয়েছে। অনেক আবাসনেও কাগজ ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই দুটোই ভুল ধারণা ও গুজবের ফল। কাগজ থেকে করোনাভাইরাস ছড়ায় না। বাড়িতে খবরের কাগজ এলে কিছুই হবে না। বরং সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্যই খবরের কাগজ জরুরি।”

এদিকে এ প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাফ জানিয়েছে, খবরের কাগজ থেকে কোভিড-১৯ ছড়ানোর কোনও আশঙ্কা নেই। কারণ পুরো যান্ত্রিক ব্যবস্থায় তা ছাপা হয়; প্যাকেটও করা হয় যন্ত্রের মাধ্যমে। শুধু খবরের কাগজ নয় এমনকি ডাকে পাঠানো বা অনলাইনে অর্ডার করা পণ্যের প্যাকেট নিয়েও আশঙ্কার কিছু দেখছে না হু। সব দিক বিবেচনা করে সরকারও সংবাদপত্রকে তথা সাংবাদমাধ্যমকে লকডাউন আওতার বাইরে রেখেছে।

এ ক্ষেত্রে হু-র বক্তব্য, “সংক্রামিত কারোর থেকে প্যাকেটে বা খবরের কাগজে নোভেল করোনাভাইরাস লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাছাড়া, এই ধরনের প্যাকেট ও সংবাদপত্র বহু এলাকা ও নানারকম তাপমাত্রা পার করে পৌঁছায়। এ কারণে ওই সব প্যাকেটের বা কাগজের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা আরও কম।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here