বিবাদ ভুলে ঘূর্ণিঝড় আমফান মোকাবিলায় মমতার উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে ট্যুইট রাজ্যপালের

0

কলকাতা: করোনা নিয়ে রাজ্য রাজ্যপালের সংঘাতের খবর বেশ কয়েকদিন আগে পর্যন্ত শিরোনামে ছিল। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে চলছিল চিঠির লড়াই। ঘূর্ণিঝড় আমফান আসার আগে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতর এবং মুখ্যমন্ত্রীর দফতরকে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রাজ্যপাল। রাজ্যের পরিস্থিত আগে থেকে পর্যালোচনা করার জন্য রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের গলায় শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা।

মঙ্গলবার এই প্রসঙ্গে বাংলায় ট্যুইট করে রাজ্যপাল লিখেছেন, “সাইক্লোন আমফানের প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের উদ্যোগ প্রশংসনীয়, যেত ২০ মে তারিখে তটরেখা অতিক্রম করবে। এই সাইক্লোনে পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং কলকাতা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবার সম্ভাবনা প্রবল।”

তিনি ট্যুইটে আরও লেখেন, “NDRF এবং ভারতীয় উপকূল রক্ষীবাহিনী (ICG) পুরোপুরি প্রস্তুত আছেন। টহলকারী ICGর জাহাজ আর প্লেন মাঝদরিয়া থেকে মাছুয়াদের নৌকোগুলিকে নির্বিঘ্নে জেটিতে ফিরে আসতে সাহায্য করছে।” বাংলার দিকে ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোনিক স্টর্ম আমফান। এমনটাই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পশ্চিমবঙ্গে আমফানের প্রভাব নিয়ে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এমনকি মঙ্গলবার রাজ্যের পাশে সব রকম ভাবে থাকার আশ্বাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বুধবার দুপুর-সন্ধ্যার আছড়ে পড়ার কথা আমফানের। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, দিঘা থেকে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ৬৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে আমফান। আগামিকাল দুপুর অথবা সন্ধ্যা নাগাদ দিঘা (পশ্চিমবঙ্গ) এবং হাতিয়া (বাংলাদেশ) উপকূল দিয়ে পেরাবে। এই দুটি জায়গা পাড় করার সময় সর্বাধিক বাতাসের গতি থাকবে ১৬৫-১৭৫ কিলোমিটার যা বেড়ে ১৯৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হতে পারে।

উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা এই দুই জেলাতে উচ্চপর্যায়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আমফানের প্রভাব সবথেকে বেশী এই দুই জেলাতে বেশী পড়তে পারে বলেই জানানো হয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে। সুন্দরবন এলাকায় ৪-৫ মিটার এবং পূর্ব মেদনিপুরে ৩-৪ মিটার পর্যন্ত সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আইএমডি অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে সেই সঙ্গে দুটি-একটি স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে বলেই জানিয়েছে।

২০ মে গাঙ্গেও পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং কলকাতায় অতি ভারী বৃষ্টির সঙ্গে গাঙ্গেও পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলা জুড়ে কয়েকটি জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাষ দিয়েছে। জেলেদের ২১ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমবঙ্গ বরাবর উত্তর ওড়িশা উপকূলের সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here