‘মুখ্যমন্ত্রী পদের যোগ্যতা আপনি হারিয়েছেন’ করোনাকে পাশবালিশ বলায় মমতাকে কটাক্ষ সুজনের

0

কলকাতা: শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছে ১ জুন থেকে মন্দির, মসজিদ ইত্যাদি এবং তারপর ৮ই জুন থেকে সমস্ত সরকারী বেসরকারি অফিস ও কর্মক্ষেত্র ১০০ শতাংশ খুলে যাবে। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন করোনাকে পাশবালিশের মতো করে দেখার জন্য। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ ট্যুইট করেছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী।

বাম পরিষদীয় দলনেতা ট্যুইট করে লিখেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী উবাচ। কিন্তু কোনভাবেই মুখ্যমন্ত্রী পদবাচ্য নয়। দায়হীন এবং অসংবেদনশীল। যুক্তিহীন এবং উদ্ধত। অমানবিকতা এবং অসভ্যতা। মুখ্যমন্ত্রী পদের যোগ্যতা আপনি হারিয়েছেন – মাননীয়া। ছিঃ!” তিনি আরও ট্যুইট করেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা- ১লা জুন থেকে মন্দির, মসজিদ ইত্যাদি এবং তারপর ৮ই জুন থেকে সব ১০০ শতাংশ খুলে যাবে। খুলতে তো অবশ্যই হবে। কিন্তু করোনা সংক্রমনের এই সময়ে সাধারণ মানুষকে পরীক্ষার গিনিপিগ করা হচ্ছে কেন? ওগুলো খোলার আগে নেতা-মন্ত্রীদের বিধানসভা তো খুলুন, মাননীয়া।”

 

পঞ্চম দফার লকডাউনে কি ছাড় দেওয়া হবে সে বিষয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১ জুন থেকে মন্দির, মসজিদ খুলবে আগামী ৮ জুন থেকে সরকারি বেসরকারি সমস্ত অফিস ১০০ শতাংশ খুলে যাবে। তবে মন্দিরে ১০ জনের বেশী প্রবেশ করতে পারবে না সেই সঙ্গে রয়েছে একাধিক বিধিনিষেধ। অন্যদিকে, “করোনাকে পাশবালিশ ভেবে ঘুমিয়ে পড়ুন”, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্তব্য করেছেন। আপনার আমার মত আমজনতার মনে হবে নেত্রী মজা করে বলেছেন। কিন্ত মজার চলে বললেও রাজ্যবাসীকে এক চরম ইঙ্গিত দিলেন তিনি। বস্তুত, হাত তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর পারছেন না তিনি। কেন পারছেন না?

বলা বাহুল্য, রাজ্যে যখন করোনা সংক্রমণের সংখ্যা প্রায় ছিল না, তখন শুরু হয়েছিল লকডাউন। কিন্তু এখন সংক্রমণের সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে। এইসময় শেষ হয়ে যাচ্ছে লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী যে প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন তা বোঝাই যাচ্ছে। কিন্তু কিসের এত চাপ? একদিকে করোনা সংক্রমণের ফলে বাড়ছে মৃত্যুর হার। সেইসঙ্গে লকডাউনে রাজ্যবাসীর কাছে সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চাপ, এবং সংক্রমণ এড়ানোর চাপ।

এতদূর পর্যন্ত তবুও ঠিক ছিল। কিন্তু গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে আগমন। বলা বাহুল্য, রেগে গেছেন নেত্রী। রেলমন্ত্রক তাঁর অনুমতি ছাড়াই একের পর এক শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন পাঠাচ্ছে। যার জেরে রাজ্যে আবার বেড়ে গিয়েছে করোনার সংক্রমণ।