মুখ্যমন্ত্রী, ভোগান্তি হচ্ছে মানুষের, বাস ভাড়া নিয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন: অধীর চৌধুরী

0

কলকাতা: লকডাউনের পর কেন্দ্রের নির্দেশে শুরু হয়েছে আনলক-১.০। এই আনলকের আওতাতেই চালু করা হয়েছে গণপরিবহণ ব্যবস্থা তবে তা স্বাভাবিক ছন্দে নয়। যা নিয়ে রাজ্যে সৃষ্টি হয়েছে যত সমস্যা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি নিয়ে কলকাতা সহ রাজ্য জুড়ে চালু হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি বাস। কিন্তু বাস চালানোর খরচ না ওঠায় ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছেন তাঁরা। সরকার ও বাস মালিকদের টানাপোড়েনে মধ্যে পড়ে ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। এই নিয়ে রাজ্য সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

কংগ্রেস নেতা ফেসবুকে লিখেছেন, “বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, বাস অমিল, মানুষ কিভাবে যাতায়াত করবে? আপনি ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা করেছেন, বাস ভাড়া বাড়বে না, বাস মালিকরা বলছে নিজের গ্যাঁটের টাকা খরচা করে বাস চালাবে না, ভোগান্তি মানুষের। বাস মালিকরা সবাই কোটিপতি নয়, সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। “আমি শুধু আমার কথা বলবো, বাকি কিছু শুনবো না” ― এটা কখনোই সুস্থ প্রশাসন নয়।” উল্লেখ্য বাস চালানো নিয়ে বাস মালিকদের সমস্যা সমাধানের জন্য ছ’হাজার বেসরকারি বাস পিছু প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে আগামী তিন মাস অনুদান দেওয়া কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তাতেও রাজি নন বেশ কয়েকটি বেসরকারি বাস সংগঠনের মালিক।

বাস মালিকরা জানিয়েছেন, যত সিট তত যাত্রী নিয়ে পুরনো ভাড়ায় বাস চালালে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যে অনুদানের কথা বলেছেন তার হিসাব করলে দেখা যাবে প্রতি দিন পাঁচশ টাকা ঘাটতি মিটবে। কিন্তু বাকি খরচা আসবে কোথা থেকে এমনটাই প্রশ্ন করেছেন তাঁরা। তাঁদের পক্ষে এতো লকশান মাথায় নিয়ে বাস চালানো সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন সেই সঙ্গে প্রতি দিন পেট্রোল-ডফিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কোথাও উল্লেখ করেন তাঁরা। রাস্তায় বাস নামানর পর থেকেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বাস মালিকদের। সেই সমস্যার সুরাহা হচ্ছে না কিছুতেই। ভাড়া নিয়ে সমস্যা না মিতলে সোমবার অর্থাৎ আজ থেকেই রাস্তায় বাস নামবে না বলেই বেসরকারি বাস মালিকরা জানিয়েছেন।

সব থেকে বড় ব্যপার হল কর্মক্ষেত্র খুলে গিয়েছে সব। এমনিতেই গণপরিবহনের মাধ্যম কম সেই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব মানতে বাসে যাত্রী কম নেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে আবারও বাস না চললে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়বে যাত্রীরা। বাস মালিক ও সরকারের এই দ্বন্দের ফল ভোগ করছে নিত্য যাত্রীরা। যাত্রীদের এই ভোগান্তিকে হাতিয়ার করেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছেন বিরোধীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here