আমফানের ঘটনায় শিক্ষা নিয়ে স্থায়ী সিটিজেন কল সেন্টার চালু নবান্নে

0

কলকাতা: আমফান বিপর্যয়ে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। প্রায় প্রত্যেকবারেই ঘূর্ণিঝড়ে বিপুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় সুন্দরবন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলার মানুষকে দুর্যোগ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে তাই এবার স্থায়ী সিটিজেন কল সেন্টার চালু করা হচ্ছে নবান্নে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রী জাবেদ খান বলেছেন- “বাংলায় বন্যা ঝড় প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা বেশি থাকায় এবং ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় তা কমানোর জন্যই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নানাভাবে সচেষ্ট। তারই একটি নমুনা এই স্থায়ী সিটিজেন কল সেন্টার।”

ফোন করে বা মেল, এসএমএস বা টুইটার সাহায্যেও আসন্ন বিপদ সম্পর্কে মানুষ প্রশাসনকে জানাতে পারবে। স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাহায্যে বিপদগ্রস্ত মানুষের ভৌগোলিক অবস্থান বুঝে নিয়ে উদ্ধার কাজে নেমে পড়তে পারবে উদ্ধারকারীরা। দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্ষয়ক্ষতি রুখতে ও মৃত্যুর হার কমাতে ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারে আরও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করা হবে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর সরাসরি পৌঁছে যাবে নবান্নের কাছে। এছাড়াও ত্রাণ সম্পর্কিত কোনরকম গোলমাল হলেও কল সেন্টারে জানানো যাবে। কোন ব্যক্তি একবার কল সেন্টারে ফোন করলে তার নাম ঠিকানা ভোটার কার্ড নম্বর সবকিছু নথিভূক্ত হয়ে যাবে।

সেই মতো সেই অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক এর কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে। সিটিজেন কল সেন্টার পরিকল্পনাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সাহায্য করেছে জিআইএস প্ল্যাটফর্ম। এটি একটি সফটওয়্যার নির্ভর ব্যবস্থা। ফোনে বিভিন্ন অ্যাপ-এর মাধ্যমে তা পরিচালনা করা যাবে। এই জিআইএস প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে কোন নির্দিষ্ট এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান , সেখানকার জনঘনত্ব, রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, স্কুল কলেজ সমস্ত কিছুর হিসাব রাখা যাবে। মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের আশা দেখিয়েছে। সাধারণ মানুষ দুর্যোগে বিপদে পড়লে একটি ফোনকল এর সাহায্যে উপস্থিতি জানতে পেরে প্রশাসন একসাথে অনেক জন মানুষকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারবে।