কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই, দল ঐক্যবদ্ধই আছে, ভুলভাল রটাচ্ছে মিডিয়া: দিলীপ ঘোষ

0
dilip ghosh

কলকাতা : কোথাও আগুন লাগলে ধোঁয়া বের হবে এটাই স্বাভাবিক, একথা নিশ্চয় সকলেরই জানা। যত দোষ মিডিয়ার একথা সমর্থনযোগ্য নয়। বেশ কয়েকদিন ধরেই কানাঘুষো হচ্ছিল বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বের কথা। জল্পনা শুরু হয়েছিল মুকুল রায়ের ফের তৃণমূলে ফেরার। এমনকি বিজেপির একটা অংশ দাবি করেছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং-ও নাকি দলের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ। তাঁদেরও দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিজেপির এক শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, তবে কি এবার দল ছাড়তে চলেছেন বাবুল-অর্জুন-মুকুল?

শুক্রবার সুভাষ সরোবরে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে সম্প্রতি দিল্লিতে বৈঠক ঘিরে যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের খবর প্রকাশ্যে আসছে সে প্রসঙ্গে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “দলে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। মিডিয়ার একটা অংশ কারও কারও নির্দেশে এটা রটাচ্ছে৷ দলের নেতাদের কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। দল ঐক্যবদ্ধই রয়েছে।”

বলা বাহুল্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগোচ্ছে তত যেন বেশি করে প্রকাশ্যে আসছে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব। একুশের ঘুঁটি সাজাতে দিল্লিতে একটানা বৈঠক করে চলেছে রাজ্য বিজেপি। শোনা যাচ্ছে, দলের কাজে স্বাধীনতা না পাওয়া এবং যথাযোগ্য সম্মান না পাওয়া নিয়ে দিল্লির বৈঠকে প্রথমদিনই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন মুকুলবাবু। মাঝপথে বৈঠক ছেড়ে ফিরেও এসেছেন কলকাতায়। যদিও এ বিষয়ে বিমানবন্দরে তিনি চোখের ডাক্তার দেখানোর কথা বললেও আসলে যে দলের সাথে মনোমালিন্যে জেরেই তিনি কলকাতা ফিরে এসেছেন সেকথা সকলেরই জানা।

তবে মুকুলের সাথে তালিকায় আরও একজন বিজেপি সাংসদ যুক্ত হয়েছেন। ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং দলে যথাযোগ্য সম্মান পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “কে বলেছেন যে যোগ্য সম্মান পাচ্ছেন না? যদি কেউ একথা বলে থাকেন, তাহলে বলতে হয় যে তৃণমূলের সামান্য কর্মী ছিলেন, বিজেপিতে যোগ দিয়েই কার্যকর্তা হয়েছেন। ভবিষ্যতেও যাঁরা বিজেপিতে যোগ দেবেন, তাঁরাও সম্মান পাবেন। অর্জুন সিংকে উত্তর কলকাতার পর্যবেক্ষক এবং রাজ্যের সহ-সভাপতির পদ দেওয়া হয়েছে।” বিজেপির একাংশের দাবি, দলের অনেক নতুন নেতাই বহুদিন ধরে ক্ষুব্ধ, তবে তা প্রকাশ্যে আসেনি। সোমবার দিল্লির বৈঠকে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে ফেলেছেন অর্জুন। তৃণমূল ছেড়ে যাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তাঁদের বেশিরভাগই মুকুল রায়ের হাত ধরে পদ্ম শিবিরে এসেছেন।

এরইমধ্যে আবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় সঙ্গে তর্কে জড়ালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এমনটাই খবর বিজেপি সূত্রে। বিশেষ সূত্রে খবর, দিলীপ ঘোষকে বাদ দিয়েই নাকি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। এদিকে বাবুলের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মুকুল ঘনিষ্ঠ সৌমিত্র খান, নিশীথ প্রামাণিক, অর্জুন সিং সেদিন বাবুলের মধ্যাহ্নভোজে উপস্থিত ছিলেন। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে সেদিন বাবুল সুপ্রিয়র বাড়ির মধ্যাহ্ণভোজে দিলীপ ঘোষ ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের দেখা যায়নি। এঁদের অনুপস্থিতি অন্যরকম গুরুত্ব তৈরি করেছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। সবমিলিয়ে, বিজেপির অন্দরে যে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে নতুন নেতাদের নিয়ে, তা স্পষ্ট!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here