লকডাউনের জেরে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম আকাশছোঁয়া, নাজেহাল সাধারন মানুষ

0

কলকাতা : ২০২০ বছরটি বিপর্যয়ে ভরা।এ কদিকে গত পাঁচ মাস ধরে করোনার প্রকোপে জেরবার মানুষ, পরে আমফানের তান্ডব এবং তাদেরই দোসর অতিবৃষ্টি। ফলে নষ্ট হয়ে গিয়েছে অধিকাংশ ফসলের ক্ষেত। মাঠের ফসল মাঠেই পচেছে‌। যা মজুদ আনাজ ও নিত্য ব্যবহার করা পণ্য ও খাদ্য সামগ্রী ছিল তাও প্রায় শেষের মুখে। যার জেরেই বাজারে ছুটছে আগুন। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ-সর্বত্রই এক ছবি।এমনিতেই একদিকে তো করোনার চিন্তা আর অন্য দিকে সিইএসসির কল্যাণে মহানগরীর মানুষের মাথায় চেপেছে ইলেকট্রিক বিলের বিশাল অঙ্কের বোঝা। লকডাউনের জেরে আমজনতার আয়ে টান পড়েছে ব্যাপকভাবে। সাধারণ মানুষ নাজেহাল অবস্থা এমনিতেই, তার ওপর চিন্তা আরও বাড়ালো আলু, পটল, কুমড়ো, মাছ, মাংসের উর্ধ্বমুখী দাম দেখে।

কিন্তু গন্ডগোলটা আবার অন্য জায়গায়, বাজার ফেরত ক্রেতাদের আবার অভিযোগ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। তারা দাবি করেছেন, লকডাউনের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি মজুত রেখে কৃত্রিম ভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাজার এমনিতেই আগুন। তার উপর একই সবজি এক-একজন বিক্রেতা আবার এক-একরকম দামে বিক্রি করছে। কেউ কেউ কাঁচা লঙ্কা ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছে, কেউ কেউ আবার ২০০ টাকা কেজিতেই বিক্রি করছে! অবাক কাণ্ড! সবমিলিয়ে তাই লকডাউনের বাজারে করোনা এবং অগ্নিমূল্য বাজার দরের সাঁড়াশির চাপে নাভিশ্বাস উঠছে আমজনতার। কি খাবে , কি বাঁচাবে তার মাঝেই নাস্তানাবুদ মানুষেরা।চন্দ্রমুখী আলুর কেজি ৩৫-৩৮ টাকা। কোথাও আবার ৪০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে চন্দ্রমুখী আলু। জ্যোতি আলুর দাম ৩০-৩২ টাকা করে চলছে। টমেটো ১৮০-২০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, ঝিঙে ৭০-৮০ টাকা, গাজর ২৫০-৩০০, উচ্ছে ৭০-৮০ টাকা, আদা-রসুন ২৫০-৩৫০ টাকা প্রতি কেজি, ক্যাপসিকাম ২৫০ – ৩০০ টাকা। মাত্র ৭ দিনে ১০০ টাকা কেজি বেড়েছে লঙ্কার। গত সপ্তাহেও যা ১০০/১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি কাঁচা লঙ্কার দর।

কলকাতায় এদিন কোলে মার্কেট থেকে যাদবপুর – প্রায় সব বাজারেই আগুন দাম কাঁচা আনাজের। সোমবার কলকাতার বাজারে সেই লঙ্কায় বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। সব মিলিয়ে অগ্নিমূল্য বাজার দর। হাত দিলেই লাগছে ছ্যাঁকা। এবস্থায় মানুষ অধীর আগ্রহে যখন অপেক্ষা করে আছে কবে করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়ে এই মূর্তিমান বিপদের হাত থেকে নিষ্কৃতি মিলবে আর কবে দেশের অর্থনীতি খানিকটা উঠে দাঁড়াবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here