২৪শে আগস্ট কলকাতার প্রতিষ্ঠা দিবস নয়

0

স্বর্ণাভ রায় চৌধুরী, কলকাতা : তিনশো বছর ধরে বিশ্ববাসীকে ভারতবর্ষের কি মিথ্যে ইতিহাস শিখিয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা? ১৮৫৪ সালে শিক্ষা সংক্রান্ত কমিশন উডের ডেসপ্যাচ থেকে ১৯৪৪-এর সারজেন্ট কমিশন। শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয় নানান এডুকেশন কমিশন ব্রিটিশরা চালু করেছিল এই দেশে। লক্ষ্য শিক্ষা বিস্তার। তার মধ্যেও কি ঔপনিবেশিক স্বার্থ লুকিয়ে ছিল..? তা না হলে ভারতীয় ইতিহাস কেনো ব্রিটিশ পরিচয় গড়ে তোলার চেষ্টা চলেছিল?

১৬৯০ – ব্রিটিশ ইস্ট ইণ্ডিয়া কম্পানী ও মোঘলদের দ্বন্দ্বের স্থিতি হয়। জন চাইল্ড বোম্বাইয়ের গভর্নর হয়ে আসেন। সেই সময় মোঘল শক্তির সাথে এঁটে উঠতে না পেরে কূটনৈতিক বুদ্ধি দেখিয়ে ঔরঙ্গজেবের কাছে কোম্পানি ক্ষমাভিক্ষা করে। ইংরেজ নৌবহর ভারতীয় বর্হিবাণিজ্যকে নষ্ট করতে পারে, এই আশঙ্কায় ঔরঙ্গজেব ক্ষমা প্রদর্শন করেন।

জব চার্নক হুগলী নদীর তীরে কুঠি পত্তন করতে আসেন। ১৬৯০ এর ২৪শে অগাস্ট, রবিবার। সুতানুটি, কলিকাতা আর গোবিন্দপুর নামে তিনটে গ্রামের স্বত্ব ইংরেজরা বড়িষার সাবর্ন রায়চৌধুরীদের পূর্বপুরুষ লক্ষ্মী নারায়ণ রায়চৌধুরীর কাছ থেকে কিনে নেয়। এই দিন কলকাতার প্রতিষ্ঠা দিবস হিসাবে পরিগণিত হওয়ার বিরুদ্ধে সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের বংশধর সহ মোট নয়জন কলকাতা হাইকোর্টে আপত্তিসূচক মামলা তোলেন।

ততকালীন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এ.কে মাথুর বিখ্যাত ঐতিহাসিক নিমাই সাধন বসুর নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। কমিটি ২০০২ সালের নভেম্বর মাসে একটি রিপোর্ট পেশ করে। ২০০৩ সালের ১৬ই মে, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট ওই কমিটির রিপোর্ট মেনে নেন এবং মহামান্য আদালত নির্দেশ জারি করেন যে, কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা একজন ইংলিশম্যান (জব চার্নক) নন। মহামান্য আদালত আরো বলেন যে, কলকাতা শহর ১৬৯০-এর বহু আগে গড়ে উঠেছে। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকে বিপ্রদাস পিপল্লাইয়ের লেখা মঙ্গলকাব্য মনসামঙ্গলেও এই শহরের বিষয় উল্লেখ আছে। ১৫৯৬-তে সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে একটা নক্সা তৈরী করিয়েছিলেন। ওই নক্সায় হুগলী নদীর তীরে হাওড়ার উল্টোদিকে কলিকাতা নামে গ্রামের নাম দেখা যায়।

এছাড়াও একাধিক ঐতিহাসিক নিদর্শনেও বৃটিশ পূর্ববর্তী সময়ে কলিকাতা নামের উল্লেখ পাওয়া গেছে। তাই কোনো সুনির্দিষ্ট সাল তারিখ কলকাতা শহরের জন্য জন্মদিন হিসাবে উল্লেখ করা যাবে না। বিচারকগণ আরো নির্দেশ দেন যে, কোনো একজন ব্যক্তি কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।জব চার্নক কলকাতার প্রথম ব্রিটিশ বাণিজ্য স্থাপনকারী হিসাবেই পরিগণিত হন। বিবাদি বাগের কাছে কাউন্সিল হাউস স্ট্রিটে সেন্ট জন চার্চের মধ্যে জব চার্নকের সমাধিক্ষেত্র অবস্থিত।

মহামান্য আদালতের ঘোষনার পরেও পেরিয়ে গেছে সতেরোটা বছর। অথচ আজও কলকাতা সম্পর্কে ব্রিটিশদের শেখানো ইতিহাসের বাইরে খোদ কলকাতাই কি বেরিয়ে আসতে পেরেছে? ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক ইতিহাস শিক্ষা থেকে কবে স্বাধীন হবে মহানগর?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here