হাটে হাঁড়ি ভাঙল! বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভ পার্টির রাজ্য সদর দপ্তরের সামনেই

0

কলকাতা: দিল্লী থেকে লোক আনিয়ে বাংলার সড়কে বিজেপি যতই লাফালাফি দাপাদাপি করুক না কেন অন্দরে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব কপালে ভাঁজ ফেলেছে রাজ্য গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের। যা নিয়ে ভোটের আগেই বেসামাল রাজ্য বিজেপি। আসলে যাদের কাঁধে ভর করে বাংলায় বিজেপির এই উত্থান, এত আস্ফালন, নব্য দলবদলু বিজেপিদের মাতব্বরি কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না সেই সকল পুরোনো বিজেপি কর্মীরা। ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই দলের অভ্যন্তরে তাদের গুরুত্ব কমে আসছে‌। যার ফলে ক্ষোভ বাড়ছে। দলের ভিতরেই প্রতিপত্তি বাড়ছে ‘আমরা – ওরা’ শব্দবন্ধের। আর এই অন্দরের কোন্দল ক্রমশ প্রকাশ্য হচ্ছে। এবার হাটে হাঁড়ি ভাঙল।

রবিবার দুপুরে রাজ্য হেস্টিংসে বিজেপির সদর কার্যালয়ের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখায় কর্মীরা। যা নিয়ে অশান্তি ছড়ায় বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরের সামনে। দলীয় এক যোগ্য নেতাকে সরিয়ে তার জায়গায় অন্য নেতাকে আনা হয়েছে। সেই নেতাকে রাখা হয়েছে সাধারণ কর্মী হিসেবে। আর তাতেই বেজায় চটেছেন দলের কর্মীরা। এই নিয়েই রবিবার বিজেপির সদর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান তারা। দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত শোনা গিয়েছে, শুভঙ্কর দত্ত মজুমদার নামে এক জনপ্রিয় নেতার দায়িত্বে ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ একাধিক বিজেপি সাংগঠনিক কাজ। কিন্তু সম্প্রতি আচমকাই তাঁকে সমস্ত পদ থেকে সরিয়ে দলের সাধারণ কর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হয়। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন কর্মীবৃন্দরা। রবিবার সেই ক্ষোভ উগরে দেন তারা। তাঁদের দাবি, শুভঙ্কর দত্ত মজুমদারের মতো নেতারা দলের জন্য উপযুক্ত। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠন অনেক মজবুত হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেই নেতাকেই এভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া বেজায় চটেছেন বিজেপি কর্মীরা।

একুশের ভোটের আগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত দলের সাধারণ কর্মীরা কিছুতেই সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না। রবিবার শুভঙ্কর দত্ত মজুমদারের ছবি দেওয়া হোর্ডিং নিয়ে হেস্টিংসে বিজেপি অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান শয়ে শয়ে দলীয় কর্মীরা। বিক্ষোভ সামাল দিতে পুলিশকেও বেশ বেগ পেতে হয়। শেষমেশ বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এ নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভের আঁচ খানিকটা কমেছে। যদিও শুভঙ্করবাবুকে তাঁর পুরোনো পদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। আর তাই রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা। কারণ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীদের নির্দেশেই দলের সাংগঠনিক কাজে পরিবর্তন আনা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here