দরকারের সময় মেলেনি রেলভবনের মানচিত্র, মমতার অভিযোগ মানল রেলমন্ত্রক

0

কলকাতা: গতকাল রাতে স্ট্র্যান্ড রোডে পূর্ব রেলের অফিসে বিধ্বংসী আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছে বিল্ডিংয়ের তেরো তলা। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে লিফটে আটকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন উদ্ধারকারী। যাদের মধ্যে ৮ জনকে শনাক্ত করে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাত ১১.২০ মিনিট নাগাদ স্ট্র্যান্ড রোডে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সেখান থেকেই বাড়ির মানচিত্র না পাওয়ায় রেলের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন। সেই কথাই মেনে নিয়েছে রেল।

পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মনোজ জোশী জানিয়েছেন, “ঘটনাস্থলে রেলের আধিকারিকরা ছিলেন। সেই মুহূর্তে হয়তো মানচিত্র পাওয়া যায়নি। কিন্তু রেলের কর্মী যাঁরা ছিলেন ভবনের কোথায় কী রয়েছে, তাঁরাই সে বিষয়ে উদ্ধারকারীদের সহযোগিতা করেছেন।” ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘‘এটা পুরোটাই রেলের জায়গা। কিন্তু এখনও তাঁরা কেউ আসেননি। আমাদের দমকলের পক্ষ থেকে একটা মানচিত্র চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটা দেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।’’ ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে বলেছিলেন, ‘‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা। মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না তাও মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপুরণ ছাড়াও পরিবারের এক জনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে।’’

স্ট্র্যান্ড রোডে পূর্ব রেলের অফিসে বিধ্বংসী আগুনে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর ট্যুইট, ‘কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনায় আমি শোকাহত। এই শোকের সময় আমি শোকসন্তস্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রত্যেককে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও এই শোক প্রকাশ করেছেন এবং বলেছিলেন যে রেল বিভাগের চারজন প্রধানের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দলকে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রেলমন্ত্রী ট্যুইট করে লিখেছেন, “কলকাতার পূর্ব রেল স্ট্র্যান্ড রোড অফিসে আগুনের সাথে লড়াই করা ৪ জন দমকলকর্মী, ২ জন রেলওয়ে কর্মী এবং একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সহ ৯ জন মৃতের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা।”