মুখ্যমন্ত্রীর আহত হওয়াকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ বিরোধীদের, দেখা করতে হাসপাতাল গেলেন শমীক – তথাগত

0

কলকাতা: ‘নাটক করছেন মমতা’ – নির্বাচনের প্রাক্কালে নিজের কেন্দ্রে প্রচারে গিয়ে রাজ্যের খোদ মুখ্যমন্ত্রীর আহত হওয়ার ঘটনাকে এইভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন বাংলায় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এমনকি রাজ্য বিজেপির অন্যন্য শীর্ষ নেতৃত্বও বেনজির মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন নি। মুখ্যমন্ত্রীর আহত হওয়ার ঘটনাকে রাজনৈতিক স্তরে নামিয়ে আনায় ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে। যা ভোটের মুখে গেরুয়া শিবিরের কাছে অস্বস্তিকর। তাই নির্বাচনের প্রাক্কালে মুখ রাখতে সৌজন্যতার খাতিরে এসএসকেএম হাসপাতালে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে গেলেন বিজেপি মুখপাত্র শামীক ভট্টাচার্য ও বিজেপির প্রভাবশালী নেতা তথাগত রায়। কিন্তু বিজেপি নেতাদের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখার অনুমতি দেয়নি চিকিৎসকরা। তাই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সাথেই কথা বলে মুখ্যমন্ত্রীর খোঁজখবর নেন বিজেপি নেতারা।

উল্লেখ্য গতকাল নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে হলদিয়ায় মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে রানিচকে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই ফেরার সময় গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। হঠাৎ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ির মধ্যে ঠেসে ধরে, গায়ের জোরে দরজা বন্ধ করে দেন। কপালে, কোমরে ও বাঁ পায়ে চোট লাগে তাঁর। নন্দীগ্রাম ছাড়ার আগে মমতা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে বলেন, “ভিড়ের মধ্যে ৪-৫ জন বাইরে থেকে ঢুকে পড়েছিল। ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় আমাকে। ইচ্ছাকৃত ভাবে ধাক্কা মারা হয়। এর পিছনে ষড়যন্ত্র ছিল।” যদিও প্রত্যক্ষদর্শীরা অন্য ব্যাখ্যা করছেন।

নির্বাচনের ঠিক আগেই এই ধরণের ঘটনায় ঘিরে উত্তাল হয়েছে বঙ্গ রাজনীতি। শাসক – বিরোধী দুই শিবিরের মধ্যে তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেও শ্লেষ বাক্য প্রয়োগ করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রীতিমতো রাজ্য বিজেপিকে হুঁশিয়ারি ছুঁড়ে দেন। অন্যদিকে বিরোধী শিবির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে সিবিআই তদন্ত দাবি তোলে রাজ্য বিজেপি। দলের শীর্ষনেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় ওই দাবি তুলেছেন। দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘‘এটা একেবারেই সহানুভূতি কুড়নোর প্রয়াস। যদি উনি চক্রান্তের অভিযোগ করেন, তা হলে দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে দেওয়া হোক। উনি এ ভাবে বিরোধীদের বদনাম করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশিই, নিজের দিকে সহানুভূতি টানতে চাইছেন। উনি যখন রাস্তায় মিছিলে হাঁটেন, তখন তাঁর ২০০ গজের মধ্যে কাউকে ঘেঁষতে দেওয়া হয় না। মনে হয়, যেন প্রধানমন্ত্রীর মিছিল যাচ্ছে! ওঁর ধারেপাশে যদি কেউ গিয়ে থাকেন, তা হলে তো সেটা ওঁরই পুলিশের গাফিলতি! সিবিআই-কে দিয়ে তদন্ত করালেই সত্য প্রকাশিত হবে। সেটা উনি করাচ্ছেন না কেন।” BJP-নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। তিনি যে অভিযোগ করেছেন, তা গুরুতর অভিযোগ। উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে তদন্ত করা উচিত।”

গতকাল রাতেই মুখ্যমন্ত্রীকে কলকাতায় আনা হয়। ভর্তি করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। তৃণমূলের সাংসদ ডা: শান্তনু সেন জানিয়েছেন, “পরীক্ষার পর দেখা গিয়েছে তাঁর পায়ে পায়ের পাতায় চিড় ধরেছে। লিগামেন্ট, টিস্যুতেও চোট লেগেছে তাঁর। জানা গিয়েছে, তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি ফুলে রয়েছে। চোট লাগা অংশে তীব্র ব্যথা রয়েছে বলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।” SSKM-হাসপাতালের অধিকর্তা মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাঁ পায়ের গোড়ালি ও পায়ের পাতায় সিভিয়র ইনজুরি রয়েছে। ডানদিকের কাঁধে ও কব্জিতে চোট রয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে বুকে ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করছেন। চিকিৎসক দলের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ৪৮ ঘন্টা পর্যবেক্ষণে থাকবেন তিনি।” কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই চোটের কারণে শাসকদলের ইস্তাহার পেশ করার দিন পিছিয়ে গেল।