দেশীয় ভ্যাকসিন নিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়

0

কলকাতা: করোনার মহার্ঘ্য টিকা নিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টা নাগাদ আলিপুর কমান্ড হাসপাতালে সস্ত্রীক টিকা নেন। টুইট করে রাজ্যপাল জানান যে তিনি দেশীয় টিকা অর্থাৎ ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভিডশিল্ডই নিয়েছেন। প্রথম থেকেই এই টিকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই সময় রাজ্যপালের এই টিকা নেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৃহস্পতিবার বেশ হাসি মুখেই তাঁকে করোনার টিকা নিতে দেখা গেল। বেশ নিশ্চিন্ত বোধ করেন তিনি।

টিকাগ্রহণের পর আলিপুর কমান্ড হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ধনকড় বলেন, ”করোনাযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা বিশ্বের প্রশংসা অর্জন করেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ এখন ভ্যাকসিনের জন্য ভারতের মুখাপেক্ষী। এই অবস্থায় আমি দেশের তৈরি ভ্যাকসিন গ্রহণ করে গর্বিত।” স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক-সহ সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজ্যপাল। প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত করোনা টিকা নেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ”আগে যাদের প্রয়োজন, তাঁরা নিক ভ্যাকসিন। সকলের প্রয়োজন মিটলে তবে আমি নেওয়ার কথা ভাবব।” উল্লেখ্য, ১ মার্চ থেকে দেশজুড়ে দ্বিতীয় দফার করোনা টিকাকরণ শুরু হয়েছে। দেশীয় ভ্যাকসিনে আস্থা দেখিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী প্রথম টিকা নেন। এছাড়াও বহু মানুষ টিকা নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজ্যপালও টিকা নেন।

সেদিক থেকে প্রথম বিশ্বের দু’-একটি দেশের পাশাপাশি ভারতও সেই গবেষণায় প্রভূত সাফল্য অর্জন করেছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ফর্মুলায় দেশীয় প্রযুক্তিতে পুণের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি হয়েছে করোনা টিকা ‘কোভিশিল্ড’। পাশাপাশি, ভারত বায়োটেক তৈরি করে ফেলেছে ‘কোভ্যাক্সিন’। নতুন বছরের শুরুতে এই জোড়া প্রতিষেধকেই দেশজুড়ে চলছে টিকাকরণ। বাংলাতেও দু’ধরনের ভ্যাকসিন পৌঁছে গিয়েছে। প্রথম সারির করোনাযোদ্ধাদের টিকাদানে প্রাধান্য দিয়ে এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবীণদের টিকাকরণ চলছে। এই দফায় ভ্যাকসিন পাচ্ছেন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্তাব্যক্তিরাও। সম্প্রতি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই কোভ্যাক্সিন নিয়ে দেশবাসীর আশা, ভরসা আরও বাড়িয়েছেন। ভ্যাকসিন নিয়েছেন রাষ্ট্রপতিও। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন বাংলার সাংবিধানিক প্রধান জগদীপ ধনকড়।