বাংলায় চীনা ভাষায় নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থীরা

0

কলকাতা: চীনের সাথে ভারতের সম্পর্ক কখনও ভাল ছিল না, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রতিবেশী দেশের সাথে যোগাযোগ আরও খারাপ হয়েছে। লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সহিংস সংঘর্ষের পর উভয় দেশ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ছিল। এই সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা শহীদ হয়েছিল। গত বছর এই ঘটনার পর থেকে চীনের বিরুদ্ধে দেশে চরম বিদ্রোহী মনোভাব তৈরি হয়েছিল। তা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) প্রার্থীরা চীনা ভাষায় প্রচার চালাচ্ছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের পূর্ব কলকাতার ট্যাংরা এলাকায় অনন্য ধারায় প্রচার করতে দেখা গিয়েছে। এই অঞ্চলটি কলকাতা শহর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। যেখান থেকে তৃণমূল আবারও জাভেদ আহমেদ খানকে মনোনীত করেছে। জাভেদ খান মমতা সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী। ট্যাংরার তৃণমূল কর্মীরা চিনা ভাষায় তাদের প্রার্থী জাভেদ আহমেদ খানের জন্য ভোট প্রচার করছেন। এখানকার দেওয়ালগুলিতে চীনা ভাষায় ‘তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ভোট’ স্লোগানে ভরা। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে থাকা লোকেদের কাছে চীনা ভাষায় প্রচার চালানো অবাক করা হলেও এর পেছনের গল্প কলকাতার মানুষ জানেন।

আসলে ট্যাংরা অঞ্চলটিকে ‘চায়না টাউন’ বলা হয়। একটা সময় ছিল যখন প্রায় ২০ হাজার চীনা বংশোদ্ভূত মানুষ এখানে বাস করত। এরা সবাই ভারতীয় নাগরিক। এখন তাদের জনসংখ্যা হ্রাস পেয়ে প্রায় ২ হাজারে নেমে গিয়েছে। এই চীনা ভারতীয় সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে এখানে ঐতিহ্যবাহী চামড়ার ব্যবসায়ের সাথে নিজস্ব চীনা রেস্তোরাঁ চালাচ্ছে। ট্যাংরা বা চায়না টাউন এখনও চীনা রেস্তোরাঁগুলির জন্য বিখ্যাত, যেখানে লোকেরা ঐতিহ্যবাহী চীনা খাবারের স্বাদ নিতে আসেন। এখানকার লোকেরা উন্নত বাংলা এবং হিন্দি ভাষা জানেন। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাদের মাতৃভাষায় প্রচার করার চেষ্টা করছেন যাতে তারা বিষয়গুলি সহজেই বুঝতে পারে।

সাধারণত চায়না টাউনে বসবাসকারী লোকেরা কেবল রাজ্যের শাসকদলের পক্ষে ভোট দেয়। রাজনীতির সাথে তাদের কোনও যোগসূত্র নেই, তবে যেভাবে বাংলায় নির্বাচনী লড়াই চলছে সেক্ষেত্রে প্রতিটি ভোট মূল্যবান। অতএব, তৃণমূল এমন একটি সুযোগ মিস করতে চায় না যা তাদের ঐতিহ্যগত ভোটগুলিকে ক্ষতি করে। তৃণমূল প্রার্থী জাভেদ খান পুরোপুরি আশাবাদী যে এবারও তিনি চায়না টাউনের ভোট পাবেন।