অনেক দেরিতে গণ টিকাকরণের সিদ্ধান্ত, প্রধানমন্ত্রীকে কড়া চিঠি মমতার

0

কলকাতা: বিপুল পরিমাণে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ।দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লাখ ।তার মধ্যে চলছে ভ্যাকসিনের অভাব।পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের দাবি নিয়ে চলছে রাজ্য কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাত। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে গণ টিকাকরণের ঘোষণা হয়। আর এই পরেই মুখ্যমন্ত্রীর কড়া চিঠি প্রধানমন্ত্রীকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ, ‘১৮ বছরের ঊর্ধ্বে ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক দেরিতে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে এখন গা বাঁচানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র’। মুখ্যমন্ত্রী ‘স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য টিকাকরণ নীতি’ সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন প্রধান মন্ত্রীর কাছে।

 

গোটা দেশ এখন কার্যত কাবু হয়ে পড়েছে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে।রোজই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ বাংলায়।আর ঠিক এমত অবস্থায় অভাব ভ্যাকসিনের।এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন করোনা টিকা,ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন।আর এই দাবিতে প্রধান মন্ত্রীকে চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর।রাজ্য ও কলকাতার বর্তমান ছবি তুলে ধরেন চিঠিতে মমতা।সাথে আবারও তাঁকে মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।কেন্দ্রের কাছে অনুমোদন চেয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেন রাজ্য নিজেদের তহবিল থেকেই বিনা পয়সায় সকলকে করোনা টিকা দিতে চায়, তার জন্য ভারত সরকারের থেকে করোনা টিকা কেনার কোনো অনুমোদন মুখ্যমন্ত্রী পাননি। সোমবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন মোদী বর্তমান দিল্লিতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে। এরপর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় আগামী ১ মে থেকে ১৮ বছরের উর্ধ্বে হলেই যে কেউ ভ্যাকসিন নিতে পারবে। অর্থাৎ এবার গোটা দেশ জুড়ে করোনা মোকাবিলায় গণটিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হবে। এছাড়াও এদিন সিদ্ধান্ত হয় ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে খোলা বাজারেও। প্রস্তুতকারক সংস্থা ভ্যাকসিন বিক্রি করতে পারবে উৎপাদনের ৫০ শতাংশ খোলাবাজারে ও রাজ্যকে।

 কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে একহাত গ্রহণ করা শুধু নয়, আবারও প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয় চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী ‘২৪ তারিখে আমি একটা চিঠি দিয়েছিলাম কেন্দ্রকে। অনুরোধ করেছিলাম, যাতে রাজ্য সরাসরি টিকা কিনে মানুষকে দিতে পারে তার জন্য হস্তক্ষেপ করতে। কিন্তু সেই চিঠির কোনও উত্তর পাইনি’। তিনি লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় তরঙ্গে সংক্রমণ যখন হু হু করে বাড়ছে, তখন কেন্দ্র অন্তঃসার শূন্য বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর পথ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ঘোষণায় টিকার কার্যকারিতা, গুণমান, সরবরাহ নিয়ে সমস্যা সমাধানের কোনও পথ দেখানো হয়নি, রাজ্য কত দামে টিকা কিনতে পারবে, সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। আমাদের আশঙ্কা, এই ঘোষণার ফলে বাজারে অসাধু প্রবণতা দেখা যেতে পারে, যা সাধারণ মানুষের টিকা কেনার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে’। চিঠিতে একেবারে শেষে মমতানপ্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান , ‘এখন বাজারে টিকা অমিল। দ্রুত এর সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। যাতে প্রতিষেধক সকলেই পান। স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য টিকাকরণ নীতি সুনিশ্চিত করুন, যাতে দেশের সব মানুষ সুলভ মূল্যে টিকা পান’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here