দেশের প্রথম দৃষ্টিহীন মহিলা আইএএস অফিসার পথ দেখাবে দেশকে

0

তিরুঅনন্তপুরম: কথায় বলে ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়া যায় জীবনের মূল লক্ষ্যে৷ ইংরেজ কবি মিলটন থেকে শুরু করে হেলেন কেলার, তাঁরা ছিলেন অন্ধ। কিন্তু জীবনের মূল লক্ষ্যে পৌঁছতে অন্ধত্ব কোনদিন স্পর্শ করতে পারেনি তাঁদের।  নিজস্ব প্রতিভার জোরে তাঁরা তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গোটা বিশ্ববাসীকে।

ঠিক তেমনভাবেই অন্ধত্ব কখনও জীবনের মূল স্রোত থেকে উজানে নিয়ে যেতে পারেনি প্রাঞ্জলকে। নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে ভর দিয়ে অন্ধকারকে জয় করে এগিয়ে গিয়েছে মহীয়সী নারী প্রাঞ্জল পাটিল। ওঁর বর্তমান পরিচয় অতিরিক্ত জেলাশাসক। দেশের প্রথম দৃষ্টিহীন মহিলা আইএএস অফিসার। ভারতের কেরল রাজ্যের তিরুবনন্তপুরমের সদ্য অতিরিক্ত জেলাশাসক হিসাবে দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেছেন তিনি।

মহারাষ্ট্রের উল্লাস নগরে জন্ম৷ মাত্র ছ’বছর বয়সেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন প্রাঞ্জল। বেশ কয়েকবার অস্ত্রোপচার করেও তাঁর ‘আলো’ ফেরাতে পারেননি চিকিত্সকরা। কিন্তু অন্ধ হলেও আই এ এস হওয়ার স্বপ্ন দেখতে ভোলেননি প্রাঞ্জল।

শিক্ষাপর্বের শুরুতে প্রাঞ্জল ভর্তি হয়েছিলেন মরাঠি মিডিয়ামের ব্লাইন্ড স্কুল কমলা মেহতা দাদর বিদ্যালয়ে। কিন্তু সেখানে সমস্যায় পড়েন তিনি। তবুও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জেদ ধরে রেখেছিলেন। পরে তাঁর পরিবার যোগাযোগ করে দৃষ্টিহীনদের জন্য সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের বিশেষ শাখার সঙ্গে।  জেভিয়ার্সের সহযোগিতায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে সেখানেই পড়ার সুযোগ পান প্রাঞ্জল। ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপ নিয়ে জেএনইউ থেকে পরে স্নাতকোত্তরও করেন। অসাধারণ নম্বরের সুবাদে এমফিল বা পিএইচডি করার সুযোগ পান প্রাঞ্জল।

ইউপিএসসি (ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন) একবারে পাশ করে ফেলেন। ২০১৬ ব্যাচে প্রাঞ্জলের র‌্যাঙ্ক ছিল ৭৭৩। তাঁর পরেরটা ইতিহাস। দেশের প্রথম অন্ধ মহিলা আই এ এস অফিসার হয়ে গর্বিত করলেন নিজেকে, নিজের মাটিকে, নিজের দেশকে। আর সেই জন্যই হয়তো দৃষ্টিহীনতাকে জয় করা প্রাঞ্জলের নাম জ্বলজ্বল করবে ইতিহাসের পাতায়।