তুষারে ঢেকেছে কাশ্মীর: আশাবাদী উপত্যকার পর্যটন

0

শ্রীনগর: প্রবল তুষারপাতে স্তব্ধ উপত্যকার জনজীবন। শনিবার রাতে জম্মু কাশ্মীরের শ্রীনগর জেলায় প্রবল তুষারপাত হয়। উপত্যকার এক বাসিন্দা জাভেদ আহমেদ বলেন ” তুষারপাতের কারণে মানুষ সাময়িক স্বস্তি পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেইসঙ্গে সমস্যাও বেড়ে গিয়েছে। গত তিনদিন ধরে এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। রাস্তা বরফের চাদরে ঢেকে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ। সরকারের কাছে মারা আবেদন জানিয়েছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিদ্যুৎ পরিষেবা যেন চালু করা হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় খুব সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ”।  আরও একজন স্থানীও বলেন, “তুষারপাতের জেরে সমস্যা হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু উপত্যকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেড়েছে দ্বিগুণ।যার ফলে র্যটকদের ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা আছে”। তবে মরশুমের প্রথম তুষারপাতে শুক্রবার থেকে ঢাকা পড়েছে জম্মু কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের একাংশ।

গত ৭ নভেম্বর তুষারপাতের কারণে শ্রীনগরে দুটি বিমান বাতিল করার ঘোষণা করা হয়। তুষারপাতের কারণে বিমান পরিষেবা কার্যত ব্যাহত শ্রীনগরে। উপত্যকার রাস্তাঘাটেও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে যান চলাচল। জম্মু অঞ্চলের মুঘল রোড সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তুষারপাতের কারণে। গত সপ্তাহে সরকারি সূত্র থেকে জানা যায়, উপত্যকায় প্রবল তুষারপাত এবং ধ্বসের কারণে জাতীয় সড়কে গাড়ি চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বুধবার থেকে জম্মুর পুঞ্চ এবং রাজৌরি জেলার সঙ্গে দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলার যোগাযোগ বিছিন্ন ছিল।

সেইসঙ্গে প্রবল বর্ষণের জেরে ধ্বস নামে সামরোলি অঞ্চলে। প্রায় ৪০০০ গাড়ি আটকে পড়ে উপত্যকার বিভিন্ন অঞ্চলে। জাতীয় সড়কের পাশে নাগরোতা, উধামপুর, রামবন, বানিহাল, সিধরা, সম্বা এবং কাথুয়া অঞ্চলগুলিতে আটকে পড়ে বেশিরভাগ ট্রাক। তুষারপাত এবং পিছল রাস্তার জন্য জম্মু এবং শ্রীনগর থেকে গাড়ি চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

তবে তুষারের জেরে সমস্যা যতই হোক না কেন, ভূস্বর্গের প্রাকৃতিক শোভা উপভোগ করছে স্থানীয় বাসিন্দারা। শীতের শুরুতেই বরফে মোড়া কাশ্মীর উপত্যকায় এবার পর্যটকের আগমন হবে বলে আশাবাদী উপত্যকার পর্যটন সংস্থাগুলি।