ব্রিটিশ সাংসদকে ‘পাকিস্তান ও আইএসআইয়ের চর’ বলে কটাক্ষ কংগ্রেস নেতার

0

তাপস রায়, নয়দিল্লি: ডেবি আব্রাহামস পাকিস্তান ও আইএসআইয়ের চর। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মানু সিঙ্ঘভি মঙ্গলবার এমনটাই মন্তব্য করেন। সূত্রের খবর, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাশ্মীর বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ডেবি আব্রাহামকে ভারতে ঢুকতে না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ওই বিরোধীদল নেতা।

তিনি টুইট করেন, মঙ্গলবার কাশ্মীর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের সমালোচক ব্রিটিশ সাংসদ ডেবি আব্রাহামকে ভারতে ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনাটি সমর্থনযোগ্য। সেখানে তিনি আরও বলেন, ডেবি আব্রাহাম সোমবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আটকানো হয়। তাঁর ই-ভিসা নাকচ হয়েছে বলে জানিয়ে দেন ভারতীয় অভিবাসন দফতরের কর্মকর্তারা। ফলে দিল্লি বিমানবন্দর থেকেই ডেবি আব্রাহামকে দুবাইয়ের ফিরতি বিমানে তুলে দেয় ভারত।

ব্রিটিশ হাই কমিশন জানিয়েছে তাদের দেশের সাংসদকে কেন ভারতে ঢুকতে দেওয়া হল না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভারতের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অপসারণের পরে বিশ্বের অনেক দেশই প্রশ্ন তুলেছে। ভারতের আমন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু সাংসদ জম্মু ও কাশ্মীর সফরে এসেছিলেন। সোমবার ব্রিটেনের লেবার পার্টির সাংসদ ডেবি আব্রাহামকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ব্রিটিশ সাংসদ এই বিষয়ে ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।ডেবি আব্রাহাম কাশ্মীরের অল পার্টির সংসদীয় গোষ্ঠীর চেয়ার পারসন। সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ডেবি আব্রাহাম দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছলে তাঁকে জানানো হয়েছিল যে তার ভিসা বাতিল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ওই ভিসাটি ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বৈধ ছিল। এই বিরোধের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্র বলছে যে, ব্রিটিশ এমপির ই-ভিসা বাতিল হয়ে গিয়েছিল।

শুধু তাই নয়, ব্রিটিশ সাংসদ ট্যুইটারেও অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর ট্যুইটে তিনি লিখেছেন, “আমি আমার ভারতীয় আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলাম, আমার সাথে ছিলেন ভারতীয় স্টাফ সদস্যরা। আমি আমার রাজনৈতিক কণ্ঠ কেবল মানবাধিকারের জন্যই উত্থাপন করছি। আমি সরকারের বিরুদ্ধে এই মামলা নিয়ে প্রশ্ন চালিয়ে যাব।”

জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেটার যারা সমালোচনা করেছিল, তাদের মধ্যে ডেবি আব্রাহাম হলেন অন্যতম। ৫ আগস্টের পরে তিনি এমন অনেকগুলি ট্যুইট করেছিলেন যা মোদী সরকারের কাশ্মীর নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক সাংসদ সদস্য জম্মু ও কাশ্মীর সফরে গিয়েছেন। এই বিষয়টি নিয়ে ভারতেও অনেক বিতর্ক হয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি ইউরোপীয় সাংসদদের সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল এবং অভিযোগ করেছিল যে স্থানীয় সাংসদ সদস্যদের পরিবর্তে বিদেশীদের কাশ্মীরে প্রেরণ করা হচ্ছে।