“আমিও সাথে করে গণেশ আর সাইরামের মূর্তি নিয়ে চলি”, ট্রেনের মধ্যে মন্দির প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন রেলমন্ত্রী

0

নয়াদিল্লি: কাশী মহাকাল এক্সপ্রেসে অস্থায়ী শিব মন্দির নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তুলকালাম শুরু হয়েছে। রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে আসাদুদ্দিন ওয়াইসির অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে ট্রেনটির উদ্বোধন করেছিলেন, সেখানে জ্যোতির্লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি কেবল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য ছিল।

রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন যে, “বিশ্বাসের ভিত্তিতে কিছু কর্মচারী ঈশ্বরের ছবি বার্থে লাগিয়ে রেখেছিলেন এবং এতে কেউ আপত্তি করেনি। আমিও গণেশ, সাই রামের ছবি নিয়ে চলি। কিছু লোক নামাজ পড়েন। বলা বাহুল্য, কাশী মহাকাল এক্সপ্রেসের ৫ নম্বর বগির ৬৪ নম্বর সিটে একটি অস্থায়ী মন্দির নির্মিত হয়েছিল।

তেলেঙ্গানার কেসিআর সরকারের প্রতি আরোপ করে রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন যে, একদিকে কেন্দ্র তেলঙ্গানাকে সহায়তা করছে, তবে তেলেঙ্গানা রাজ্য মন্ত্রিসভায় নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) বিরোধিতা করছে। এটি তুষ্টিকরণের রাজনীতি। সিএএ কারও বিরুদ্ধে নয়। এটি কেবলমাত্র সেই সংখ্যালঘুদেরই নাগরিকত্ব দেবে যারা পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানে ধর্মীয়ভাবে প্রতাড়িত হয়েছেন।

পীযূষ গোয়েল বলেন যে, সিএএ ভারতের একটা আইন এবং কোনও রাজ্য সরকারের পৃথক আইন পাস করতে পারে না বা বিরোধিতা করতে পারে না। একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয়, রাষ্ট্রকে সংসদ দ্বারা পাস হওয়া আইনের অনুসরণ করতে হয়। তেলঙ্গানা সরকার সংবিধান, সংসদ এবং ভারতের জনগণকে অপমান করছে। আসাদুদ্দিন ওয়াইসির নির্দেশে কেসিআর নোংরা রাজনীতি করছে।আসাদুদ্দিন ওয়াইসির উপর ধর্মীয় রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে পীযূষ গোয়েল বলেন যে, তিনি সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছেন। ওয়াইসি এবং টিআরএস সিএএ-র বিষয়ে লোককে বিভ্রান্ত করছে এবং আমি সবাইকে আশ্বাস দিয়েছি যে এটি কোনও ভারতীয়ের বিরুদ্ধে নয়। যদি কোনও ব্যক্তি ধর্মের ভিত্তিতে তেলঙ্গানাকে ভাগ করতে চায়, তবে তারা কেসিআর এবং ওয়াইসি। যারা ধর্ম ভিত্তিতে সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছেন।

উল্লেখ্য, কাশী-মহাকাল এক্সপ্রেসে মহাদেবের জন্য আসন সংরক্ষণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রশ্ন ছোঁড়েন AIMIM প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। সোমবার সংবিধানের খসড়ার ছবি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে ফের মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন তিনি।

বলা বাহুল্য, রবিবারেই কাশী-মহাকাল এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এই ট্রেনের একটি বার্থে মহাদেবের ছোট মন্দির বানানো নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। নর্দার্ন রেলওয়ের মুখপাত্র দীপক কুমার সংবাদসংস্থাকে জানান, ট্রেনের B5 কোচের ৬৪ নং সিটটিকে ওই মন্দিরের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। এই প্রথমবার যাত্রীবাহী কোনও ট্রেনের আসন সংরক্ষিত হয়েছে ভগবান শিবের জন্য।

শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর ভগবান মহাকালের জন্য বার্থে একটি মন্দিরও স্থাপন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সদ্য চালু হওয়া এই ট্রেনটিতে বাজবে হালকা ভক্তিগীতি। শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার পাওয়া যাবে এটিতে। বারাণসী থেকে ইন্দোর পর্যন্ত সপ্তাহে তিনদিন 3-AC সার্ভিসের এই ট্রেনটি চালান হবে।রবিবার রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহাদেবের তিনটি জ্যোতির্লিঙ্গ রাখা হয়েছে ওই ছোট্ট মন্দিরটিতে। যাত্রাপথে বছরের বিশেষ দিনগুলিতে পুজো দিতে পারবেন ভক্তরা। যদিও মন্দিরটি স্থায়ী কিনা সেই বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করেনি রেলকর্তৃপক্ষ।