নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে যথেষ্ট নয় ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড

0

গুয়াহাটি: দেশবাসীর মাথায় নাগরিকত্ব প্রমাণের খাঁড়া ঝুলিয়ে দিয়েছে মোদী সরকার। কিন্তু সাধারণ মানুষ নাগরিকত্বের প্রমাণ কিভাবে দেবেন সেই কথা বলে দেয়নি সরকার। সরকারের এই আচরণে রীতিমত বিড়ম্বনায় পড়েছে আম জনতা। জনগণ যখন শেষ ভরসাটুকু নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন তখন আদালতের তরফ থেকেও আসছে কিছু অবান্তর জবাব।

এই পরিস্থিতিতে গুয়াহাটি আদালতের রায়ে আরও সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভোটার কার্ড নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে গুয়াহাটি হাইকোর্ট। ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড অথবা বাড়ির দলিল-এর কোনওটাই নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয় বলে দাবি আদালতের। এদিন জাস্টিস মনোজিৎ ভুবন এবং জাস্টিস পৃথ্বীজ্যোতি সাইকা নিজেদের পুরনো সিদ্ধান্তেই অনড় আছেন।

এর আগে সুনিন্দ্র বিশ্বাসের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় শুনিয়েছিল। জাভেদা বেগম নামক এক মহিলা তিনসুকিয়া ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু উচ্চ আদালতেও তাঁর অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়। নথিপত্রের মাধ্যমে ওই মহিলা নিজের বাবা মায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ওই মহিলা নিজের ব্যঙ্কের নথি, জমির দলিল এবং প্যান কার্ড দেখিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সেগুলি যথেষ্ট নয়।

বলা বাহুল্য, গত বছর আগস্ট মাসে প্রকাশিত এনআরসি তালিকা থেকে অসমে বাদ পড়েন প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ। তাঁদেরকে বিদেশি বলে চিহ্নিত করা হয়। বিদেশি ট্রাইব্যুনালে নিজের নথিপত্র জমা করে ওই মহিলা বলেছিলেন যে ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর বাবা-মা এবং ঠাকুরদা-ঠাকুমার নাম ছিল। শুধু টাই নয়, ১৯৭০ এবং ১৯৯৭ এর ভোটার তালিকাতেও তাঁর বাবার নাম ছিল। কিন্তু মা বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রমাণিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ খারিজ করে দেয় ফরেন ট্রাইব্যুনাল।

এখন শেষ আসা নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও আশাহত হতে হয় জাভেদাকে। অন্যদিকে, অসম প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, যতদিন না উনি নিজের বাবা মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করতে পারছেন, ততদিন তাঁকে ডিটেনশান ক্যাম্পে থাকতে হবে। বলা বাহুল্য, অসমের এনআরসি আধিকারিকেরা নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য বাড়ির দলিল এবং ব্যাঙ্কের কাগজপত্র গ্রহণ করেছিল। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশে ফের তা ফিরিয়ে দিতে হয় তাদের।