জুম্মার নমাজের জন্য প্রতি সপ্তাহে র‍্যাফ নামানো হয় এই মসজিদ চত্বরে

0

হায়দরাবাদ: নির্বিঘ্নে উৎসব পরিচালনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। যে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও তা করা হয়ে থাকে। দুর্গাপুজোর মতো বড় অনুষ্ঠান বা ঈদের নমাজের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় বিভিন্ন জায়গায়।

তবে সেই সবকিছুই বার্ষিক উৎসব। সেই জায়গায় কিছুটা হলেও ভিন্ন ছবি দেখা যায় তেলেঙ্গানার রাজধানী শহর হায়দরাবাদে। ওই শহরের মক্কা মসজিদ চত্বরে প্রতি সপ্তাহেই মোতায়েন করা হয় র‍্যাফ। কেবলমাত্র একদিনের জন্য। আর সেই বিশেষ দিনটি হল শুক্রবার অর্থাৎ জুম্মাবার।

আরও পড়ুন- মুসলিমহীন গ্রামে পুরনো মসজিদ সামলাচ্ছেন হিন্দুরা, চলছে আজান

ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুসারে শুক্রবারে বিশেষ নমাজ পাঠ হয়ে থাকে। এই দিনটি জুম্মাবার নামে পরিচিত। এই একদিনের নমাজের জন্য নিজামের শহরের মক্কা মসজিদে নামানো হয় র‍্যাফ। সপ্তাহের এই বিশেষ দিনে সকাল থেকে মসজিদ চত্বর ঘিরে ফেলে র‍্যাফ সদস্য। ওই বাহিনীর সকল সদস্যদের সঙ্গে থাকে আত্মরক্ষার সামগ্রী এবং অস্ত্র।

কিন্তু একদিনের জন্য কেন এমন ব্যবস্থা? এর উত্তর খুঁজতে চলে যেতে হবে এক দুগ আগের ঘটনায়। ২০০৭ সালের মে মাসের ১৮ তারিখে। ওই দিনটিও ছিল শুক্রবার। সেই সময় হায়দরাবাদ ছিল অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী। তেলেঙ্গানা নামক রাজ্যের তখনও জন্ম হয়নি।

আরও পড়ুন- আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং-এর শিকার বিজেপি বিধায়কের নাতি

সেদিন জুম্মার নমাজ চলার সময়ে ওই মক্কা মসজিদে ঘটে যায় বিস্ফোরণ। রাজ্যের রাজধানি শহরের মসজিদে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মোবাইলের মাধ্যমে ঘটানো সেই বিস্ফোরণে প্রাণ যায় নয় জন নিরীহ মানুষের। একই সঙ্গে জখম হয়েছিলেন ৫৮ জন মানুষ।

সেই ঘটনার পর থেকেই জুম্মার নমাজের সময় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। মোতায়েন করা হয় র‍্যাফ। প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে মসজিদ চত্বরের দখল নেয় র‍্যাফ বাহিনী। সশস্ত্র এই সদস্যদের নিরাপত্তার ঘেরাটোপে প্রতি সপ্তাহে চলে জুম্মার নমাজ। প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি স্থানীয়রা। ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনার সময়ে মনের মধ্যে কেবল ভক্তিই থাকে। কারোর মনে কোনও ভয়ের জায়গা থাকে না।