লকডাউনের প্রভাবে দেশজুড়ে কমছে দূষণ

0

নয়াদিল্লি: করোনার জেরে আতঙ্কিত গোটা ভারত। দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬২-তে, মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। করোনা প্রতিরোধে আগামী ২১ দিন গোটা দেশজুড়ে লকডাউন জারি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাস্তাঘাটে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে যাওয়া যাবে না, এমনটাই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আর এই লকডাউনের প্রভাবেই দেশজুড়ে কমছে দূষণের মাত্রা।

রাস্তাঘাটে নেই লোকজন, যান চলাচল বন্ধ, কল-কারখানাও, শিল্পাঞ্চল বন্ধ রয়েছে। এর ফলেই গোটা দেশের বায়ুতে নাইট্রোজেন অক্সাইডের এক বিরাট অবনতি ঘটেছে। যানবাহন না চলার কারণে বাতাসে মিশ্রিত হচ্ছে জ্বালানি তেলের দূষণ। অভিজ্ঞ আবহাওয়াবিদদের মতে ২০২০ সালের ৫ মার্চ থেকে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন অক্সাইডের মাত্রা মুম্বই ও পুনেতে প্রায় ৪৫%, আহমেদাবাদে ৫০% কমেছে। যা ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের রেকর্ড করা স্তরগুলির থেকে অনেকটাই কম।

যদিও দিল্লির মতো শহরে যেখানে বায়ু দূষণের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি সেখানে এখনও পর্যন্ত কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি, পিএম২.৫ স্তরগুলি হ্রাস পেয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার একটি সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “করোনা ভাইরাস মহামারী নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ হ্রাস করেছে এবং বায়ুর গুণগত মানের স্থানীয় উন্নতি সাধন করেছে। তবে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্বের জন্য খুব শীঘ্রই এর প্রভাব মূল্যায়ন করা যায়, যার জন্য দায়ী দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তন।”

দিল্লি একটি সামগ্রিক বায়ুর গুণগত মানের সূচক (একিউআই) রেকর্ড করেছে ৯২, যা ‘সন্তোষজনক’ বিভাগের (একিউআই 51 থেকে 100) উচ্চতর প্রান্তে রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের প্রধান কুলদীপ শ্রীবাস্তব বলেন, “শীঘ্রই বাতাসের গুণমান ‘ভাল’ -এর দিকে চলে যেতে পারে। এটি যানবাহন ট্রাফিক হ্রাস এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হয়েছে।” লকডাউনের ফলে করোনার প্রকোপ থেকে বাঁচা যাবে কিনা তা সময়ই বলবে, তবে দেশের অনেক শহরে যে দূষণ কছে তা অত্যন্ত ভালো লক্ষণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here