সেনাবাহিনী সরকার ও জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত: জেনারেল বিপিন রাওয়াত

0

নয়াদিল্লি: ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল বিপিন রাওয়াত বিশ্বাস করেন যে ভারতকে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্বের মাধ্যমে কোভিড-১৯ ভাইরাসের চেনটি ভেঙে ফেলতে হবে অথবা মহামারিটির দীর্ঘমেয়াদী পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

জেনারেল রাওয়াত এক ফোনের সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, “সামরিক বাহিনী হ’ল ‘প্রস্তুত অথবা বিনষ্ট’-এর প্রতীক, তবে কোভিডের এই সময়ে আমরা এটিকে ‘প্রস্তুত অথবা ভুক্তভোগী’ করার জন্য পরিশ্রুত করেছি। আগামী ১৪ এপ্রিলের মধ্যে আমাদের ১০০% লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্বের মাধ্যমে ভাইরাসটির বিস্তারকে অবশ্যই রোধ করতে হবে। ভারতীয় সেনাবাহিনী সরকার ও জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

তিনি বলেন যে, আক্রান্তদের দেখাশোনার জন্য সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমানবাহিনী ১৭-১৮টি হাসপাতালকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এখন পর্যন্তও সেনার মোট শয্যা সক্ষমতা ১৫,০০০ পর্যন্ত উন্নীত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নাগাল্যান্ডের দিমাপুর ও জাখামার মতো দূরের জায়গাগুলিতেও আমাদের হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে, যদিও উত্তর-পূর্ব ভারতে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েনি। আমাদের এখন প্রতিটি জোনে ২-৩টি হাসপাতাল সংক্রমণের চিকিত্সা, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।”

সিডিএস আরও জানিয়েছেন যে, ভারতীয় সেনা ও তার ডাক্তাররা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চললেন এবং তিনি নিজে, সামরিক বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পিকে মিশ্র এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব রাজীব গৌবার সাথে বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।জেনারেল রাওয়াত বলেন যে, দিল্লির মতো জায়গাগুলিতে সাধারণত ভিড় থাকে এমন প্রতিটি হাসপাতালের একটি করে ওয়ার্ড কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা জয়সালমের, যোধপুর এবং ঝাঁসিতে আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা তৈরি করেছি যার জন্য ৫০০ জন রোগীর চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে মানসেয়ারের মতো প্যারা-মিলিটারি সুবিধাগুলির সক্ষমতা যুক্ত করতে পারে।”

সরকারের একক দফা সামরিক উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু লকডাউন হওয়ার কারণে সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমানবাহিনীর স্কুল বন্ধ রয়েছে, তাই সেই এলাকাগুলিও পৃথক পৃথক কেন্দ্র হিসাবে প্রস্তুত করা যেতে পারে। “আমাদের তিনটি আর্মি পাবলিক স্কুল, একটি নেভি স্কুল এবং একটি বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুল দিল্লিতে রয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে এই স্কুলগুলিকে প্রয়োজনবোধে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করে দেওয়া হবে। যদিও এই স্কুলগুলির প্রত্যেকটির ধারণক্ষমতা প্রায় ১৫০০ রোগী। কিন্তু যথাযথ স্যানিটেশন প্রয়োজনীয়তার কারণে প্রতিটি স্কুলে মাত্র ২০০ জনকে রাখা হবে। প্রয়োজনে বা খারাপ অবস্থার ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে একই মডেল প্রস্তুত করা হবে।”

জেনারেল রাওয়াত বলেন যে, “প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ভেন্টিলেটর, মাস্ক এবং সুরক্ষা স্যুটগুলির মতো চিকিত্সা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারীদের অগ্রিম অর্থ প্রদানের অনুমতি দিয়ে সংগ্রহের নির্দেশিকায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেছে। আমরা ইতিমধ্যে ডিআরডিও-প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা-এর কাছে ৩৭০ ভেন্টিলেটরের অর্ডার দিয়েছি এবং অর্ডানেন্স কারখানাগুলিকে মাস্ক এবং পিপিই(personal protective equipment) অর্থাৎ ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম-স্যুট তৈরির জন্যও বলেছি। অগ্রিম অর্থ প্রদানের ক্ষমতা সশস্ত্র মেডিকেল সার্ভিসের ডিরেক্টর জেনারেল, সেনা কমান্ডার, কর্পস কমান্ডার এবং ব্রিগেড কমান্ডারদের দেওয়া হয়েছে, যাতে সেনা ও জনসাধারণ উভয়ের জন্যই কোনও চিকিত্সা সরবরাহের অভাব না হয়।”

সিডিএস আরও বলেছেন যে, দুটি জরুরি মেডিকেল জাহাজ চিকিত্সার জরুরী অবস্থার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলিকে সহায়তা করতে প্রস্তুত ছিল। বিমান বাহিনী, যা সম্প্রতি মালদ্বীপে একটি ১৪ সদস্যের দল নিয়ে গিয়েছিল, সে দেশের ও বাইরে চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

যদিও জেনারেল রাওয়াত আশাবাদী যে ভারতে এই ভাইরাস থাকতে পারলেও “সামাজিক দূরত্ব, লকডাউন এবং ভারতের গ্রীষ্মের উত্তাপ” এই ভাইরাসের অবসান ঘটাবে।