সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কৃতিত্ব নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী, এখন রাস্তায় পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর দায় কে নেবে? উঠছে প্রশ্ন

0

নয়াদিল্লি: পুলওয়ামা হামলার পর পাকিস্তানে প্রবেশ করে এর বদলা নিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। তার আগে উরি হামলার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে পাকিস্তানকে জবাব দিয়েছিল ভারত। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনা এবং বায়ুসেনাকে কুর্নিশ জানিয়েছে সমগ্র বিশ্ব। কিন্তু পাকিস্তানে প্রবেশ করে জঙ্গিদের খতম করার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নিয়ে নিয়েছে মোদী সরকার। মোদী মিডিয়াতে এমনভাবে এই ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে যেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং পাকিস্তানে গিয়ে জঙ্গিদের খতম করেছেন। তবে আজ দেশের অভ্যন্তরে লকডাউনের প্রভাবে যে শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে তার দায় কে নেবেন?

এর দায়ভারও কি দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপরই বর্তায় না? বলা বাহুল্য, মারণ ভাইরাস করোনার হাত থেকে রক্ষা পেতে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জারি করা হয়েছে লকডাউন। কিন্তু ভারতের মোদী সরকার শ্রমিকদের কোনোরকম প্রস্তুতির সময় দেননি। আচমকা জারি হওয়া লকডাউনের ফলে কাজ হারিয়ে, বাসস্থান হারিয়ে পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন দেশের হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক। ২৪ মার্চ রাত ১২ টায় হঠাৎ যেন স্তব্ধ হয়ে গেল গোটা দেশ। ওইদিন থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে প্রায় ৩৬৮ জনের।

শহরের ঝুপড়ি ছেড়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া পরিযায়ী শ্রমিকরা কখনও গাড়ি চাপা পড়ে মারা গিয়েছেন তো কখনও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে তাঁদের গাড়ি। আবার ক্লান্ত পরিশ্রান্ত শরীরে ঘুমন্ত অবস্থায় কখনও রেলগাড়ি উল্টে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। আবার কখনও বৈদ্যুতিক তার তাঁদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। সেভ লাইফ ফাউন্ডেশান নামক এক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মার্চ অর্থাৎ লকডাউন ঘোষণা হওয়ার দিন থেকে শুরু করে ১৬ মে পর্যন্ত দেশে প্রায় ২ হাজার দুর্ঘটনা ঘটেছে। যার ফলে মৃত্যু হয়েছে ৩৬৮ জনের। যার মধ্যে কেবলমাত্র উত্তরপ্রদেশেই মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১০০ জন শ্রমিকের।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৩ মার্চ রাত ৮ টায় লকডাউন ঘোষণা করে দিলেন। কিন্তু দেশের পরিযায়ী শ্রমিক, দরিদ্রদের জন্য কোনোরকম ব্যবস্থা করলেন না। প্রায় ২ মাস হতে চললেও এখওন পর্যন্ত রাস্তায় হেঁটে চলা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কোনও ঠিকঠাক বন্দোবস্ত করতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, এখন করোনার জেরে দেশের কোথাও কোনও নির্বাচনদের দামামাও নেই। তাই হঠাৎ করেই শ্রমজীবী মানুষদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল কি? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here