দু-মাস ধরে কেবলমাত্র ট্রেলার দেখাল সরকার, আসল লকডাউন শুরু হবে ৮ জুনের পর

0

কলকাতা: দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হয়েছিল গত ২৪ মার্চ। চিন, ইউরোপ আমেরিকায় করোনা সংক্রমণের গতিবিধি এবং ভারতেও করোনার প্রবেশ দেখে রাতারাতি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন লকডাউন। প্রথম দফায় ১৪ দিনের লকডাউনে থাকার পর মানুষ ধীরে ধীরে উপলব্ধি করে যে করোনার হাত থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হল গৃহবন্দী থাকা। এরপর দ্বিতীয়, তৃতীয় দফা পেরিয়ে বর্তমানে চতুর্থ দফার শেষপর্যায়ে পৌঁছেছে লকডাউন।

কিন্তু দেশে লকডাউন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে করোনা সংক্রমণের সংখ্যাও। কেরলে প্রথম সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তা সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়ে। করোনার জেরে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় মহারাষ্ট্র। কিন্তু বর্তমানে যখন দেশে করোনায় সংক্রমিতের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৭৪ হাজার এবং মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৯৭১ দাঁড়িয়েছে, তখন হাত তুলে নিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

লকডাউনে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে রাজ্যগুলির ওপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব। ইতিমধ্যেই যার প্রভাব দেখা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ৮ জুন থেকে রাজ্যের ধর্মীয় স্থান এবং সমস্ত সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এখানেই উঠছে প্রশ্ন। যখন সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, তখন ধর্মীয় স্থানগুলিতে কতজন মানুষ যাচ্ছেন, তার উপর নজর রাখবে কে? ৭০% কর্মচারী নিয়ে যদি অফিসগুলো কাজ করতে শুরু করে, তাহলে সামাজিক দূরত্ব আদৌ মানা হচ্ছে কিনা সেই বিষয়টি কে দেখবেন?

অর্থাৎ, আগামী ৮ জুন রাজ্যে প্রায় উঠেই যাচ্ছে লকডাউন। কিন্তু ক্ষমতা থাকছে না কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের হাতে। আদপে এখন লকডাউনের নিয়মকানুন নির্ভর করছে সাধারণ মানুষের উপর। করোনার হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার দায়ভার এখন আমজনতার। প্রশ্ন উঠছে, যদি এটাই হওয়ার ছিল, তাহলে গত ২ মাস মানুষকে বাড়িতে বসিয়ে রাখার কি প্রয়োজন ছিল? ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা যখন প্রায় নগন্য তখন সম্পূর্ণ লকডাউন জারি করল কেন্দ্র। আর এখন আক্রান্ত যখন লক্ষাধিক তখন সবেতেই ছাড়!

যে লকডাউনের ফলে হাজার হাজার মানুষ কাজ হারালো, শতাধিক শ্রমিক প্রাণ হারালো, বেসরকারি কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেল, সেই লকডাউনের কি আদৌ কোনও প্রয়োজন ছিল? অর্থাৎ, গত ২৪ মার্চ থেকে ৭ জুনের লকডাউন কেবলমাত্র জনগণের উদ্দেশ্যে এক নজির ছিল। আসল লকডাউন শুরু হবে এরপর, আমজনতার হাত ধরে। যখন মানুষ নিজেরাই লকডাউনের নিয়মকানুন তৈরি করবে এবং সেগুলিকে পালন করবে।