চিনের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত, লাদাখের চিন সীমান্তে সেনার জন্য তৈরি হচ্ছে বিমানবন্দর

0

নয়াদিল্লি: লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণের রেখা বরাবর ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনার মাঝে দক্ষিণ কাশ্মীরে ভারতের জাতীয় হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়কে জরুরি অবতরণ স্ট্রিপ তৈরি করছে।

দক্ষিণ কাশ্মীরের বিজবেহার নিকটে শ্রীনগর ও জম্মুর মধ্যে নতুন নির্মিত জাতীয় হাইওয়ের পাশেই কাজ শুরু হয়েছে। এই রাস্তা আকাশ পথের আয়তনের মোট ৩.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট হবে এবং সেনাদের জরুরী অবতরণের জন্য ব্যবহৃত হবে। কর্মকর্তারা অবশ্য দক্ষিণ কাশ্মীরে বিমান চলাচল নির্মাণের সাথে ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনার যোগসূত্রকে অস্বীকার করেছেন। গত ৫ মে থেকে ভারত চিন সেনার মধ্যে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা, যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গত প্রায় ২৫ দিন ধরে চিনের সন্যের সঙ্গে ভারতীয় সেনার ঠাণ্ডা লড়াই চলছে। ভারত-চিন দুই দেশের সম্পর্ক এখন বেশ জটিল। সীমান্তে পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত ও চিন সামরিক স্তরের আলোচনা করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্ব লাদাখের পানগং, তসো, গালওয়ান ভ্যালি, ডেমচক এবং দৌলতবাগের ওল্ডিতে তিন সপ্তাহ ধরে ভারত ও চিনের সেনাবাহিনী বেশ গুরুতর সমস্যার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে সীমান্তে অচল অবস্থা।

উভয় দেশই এই বিরোধ সমাধানের জন্য সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করবে বলেই স্থির করেছে। আগামী ৬ জুন শনিবার চিন-ভারত সীমান্তে ভারতের অন্তর্গত চুশুল-মোলদো অঞ্চলে বৈঠক হবে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর। ভারতের হয়ে নেতৃত্ব দেবেন ১৪ ক্রপ্সের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন দুই দেশের এই বৈঠকের সিদ্ধান্তে “ইতিবাচক ইঙ্গিত রয়েছে।”

চিনের এই আগ্রাসী মনভাবের বিরুদ্ধে গিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে মোদীর কাছের বন্ধু দেশ আমেরিকা। মার্কিন সংসদের নিম্নকক্ষের বিদেশনীতি সংক্রান্ত কমিটির প্রধান এলিয়ট এঞ্জেলর মন্তব্য করেছিলেন প্রতিবেশী দেশের প্রতি চিনের এই মনোভাব অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমেরিকার মন্তব্য প্রসঙ্গে বুধবার চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, “সীমান্তের পরিস্থিতিতে স্থিতাবস্থা এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার মতো সামর্থ দুই দেশেরই আছে। তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।” তবে শনিবারের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র দেশ।