চিনকে জবাব দিতে একসঙ্গে ৩০০ টি লক্ষবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম বিধ্বংসী এস-৪০০ মিসাইল রাশিয়ার থেকে কিনছে ভারত

0

নয়াদিল্লি: লাদাখে চিনা আগ্রাসন নিয়ে ভারত-চিনের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের জমি দখল করে বসে আছে চিন যা নিয়ে গণ্ডগোলের সুত্রপাত। গালওয়ান ভ্যালিতে ১৫ জুন ভারত-চিন মুখোমুখি সংঘর্ষে শহীদ হয়েছে ২০ জন ভারতীয় সেনা। সেই উত্তেজনে এখনও অব্যাহত। লাদাখে উপগ্রহ ছিতে ধরা পড়েছে চিন তাদের সেনা সাজাচ্ছে যুদ্ধের জন্য। তবে বারত পিছিয়ে নেই। এই আবহে রাশিয়া সফরে গিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি খালি হাতে নয় বরং চিনেকে জবাব দিতে একসঙ্গে ৩০০ টি লক্ষবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম বিধ্বংসী এস-৪০০ মিসাইল নিয়ে ফিরছেন ভারতীয় সেনাদের যুদ্ধের জন্য।

রাশিয়ান যুদ্ধাস্ত্র এস-৪০০ মিসাইল ক্ষমতায় শত্রুরা ভয় পেতে বাধ্য। বায়ু সেনার শক্তি আরও বৃদ্ধি করতে আগামী বছরেই ভারতে আসবে এস-৪০০ মিসাইল। ১৯৯০ সালে এই অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট ওয়েপন সিস্টেম তৈরি করেছিল রাশিয়া। রাশিয়া মস্কো অঞ্চলে জাতীয় আকাশসীমা রক্ষার জন্য চারটি এস-৪০০ রেজিমেন্ট স্থাপন করেছিল। এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ মিসাইলের আগে নাম ছিল এস-৩০০ পিএমইউ। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলিকে ২০১২ সালের শেষের দিকে উন্নত এস -৪০০ ট্রায়াম্ফ দিয়ে পুনরায় সাজানো হয়েছিল।

আকাশসীমা থেকে যেকোনো শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষেত্রে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ মিসাইল হল বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, দূর-পাল্লার সার্ভিল্যান্স রাডার, অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড এনগেজমেন্ট রাডার, কম্যান্ড ভেহিকল এবং ট্রান্সপোর্টার-ইরেক্টর-লঞ্চার ভেহিকল বা টেল ভেহিকল। শত্রুপক্ষকে আক্রমণ করার জন্য নির্ভুল লক্ষবস্তুতে আঘাত হানে রাশিয়ান এই ক্ষেপনাস্ত্রের জুরি মেলা ভার। নিমেষের মধ্যে শত্রুপক্ষের কমব্যাট ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট গুঁড়িয়ে দিতে পারে বলেই প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এই রুশ ক্ষেপনাস্ত্র কেনার জন্য ২০১৫ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের চুক্তি হয়েছিল ৫৪৩ কোটি মার্কিন ডলারের। তবে আমেরিকার সঙ্গে বেশ কিছু সমস্যার কারণে ভারতের হাতে এটি এসে পৌঁছায়নি। তবে এখন আর সেই বাধা থাকছে না। ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত টার্গেট দেখতে পায় এই মিসাইল সিস্টেমের র‍্যাডার। এস-৪০০ ট্রায়াম্ফে চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত থাকে। ৪০এন৬ই মিসাইল যার পাল্লা ৪০০ কিলোমিটার এবং ৪,৮০০ মিটার/সেকেন্ড বেগে গিয়ে লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ৪৮এন৬ডিএম মিসাইল যার পাল্লা ২৫০ কিলোমিটার এবং গতিবেগ ২০০০মিটার/সেকেন্ড। ৯এম৯৬ই২ মিসাইল যার পাল্লা ১২০ কিলোমিটার এবং গতিবেগ ২০০০মিটার/সেকেন্ড। ৪০ কিলোমিটার পাল্লা ও ৯০০ মিটার/সেকেন্ড গতিবেগের ৯এম৯৬ই মিসাইল যুক্ত থাকে এস -৪০০ ট্রায়াম্ফ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে।

রুশ প্রজুক্তিতে তৈরি এস -৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশপথে নানা ধরনের মিসাইল হানাকে রুখতে সক্ষম। শত্রুদের মোকাবিলা করার জন্য এই হাতিয়ার ভারতীয় বায়ুসেনার এক মক্ষম অস্ত্র হতে চলেছে। এটি বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনী এবং ভবিষ্যতের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটেও কার্যকর। ভারতীয় সেনাকে ঢেলে সাজাতে শুধু এটাই নয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে রাশিয়ার থেকে ১২টি অত্যাধুনিক সুখোই ফাইটার জেট ও ২১টি নয়া ভার্সনের মিগ-২৯ কেনার পরিকল্পনা করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here