গলেছে বরফ: বিধানসভায় একসাথে গেহলট ও পাইলট

0

পায়েল ভড়, জয়পুর: মাসখানেক সংঘাতের পর এই প্রথম বৃহস্পতিবার আইনসভা দলের (সিএলপি) বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং তাঁর প্রাক্তন উপ-সচিন পাইলটের দেখা। বাড়িতে আয়োজিত কংগ্রেসের বিধায়ক দলের বৈঠকে আসার জন্য ব্যক্তিগত ভাবে সচিনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন গেহলট। সামনে চায়ের পেয়ালা এবং কিছু গল্প। কিছুক্ষণ পরে হাত মিলিয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে ‘পোজ’!

ক’দিন আগে অব্ধব মরুরাজ্য উত্তাল হয়েছিল এই দুই ব্যক্তির সংঘাতে। যে দ্বন্দ্ব মেটাতে কার্যত কালঘাম ছুটেছে হাইকম্যান্ডের। বিকেল পাঁচটায় বৈঠক শুরু হওয়ার অনেক আগেই দলবল নিয়ে পৌঁছে যান সচিন। গেহলটের নিজের শিবিরের বিধায়কেরা তখনও রওনা হয়নি জয়পুরের হোটেল থেকে বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে আলাদা করে কিছুক্ষণ কথা বলে নেন গেহলট এবং পাইলট। ছিলেন দিল্লির দূত অজয় মাকেন এবং কে সি বেণুগোপালও। আলোচনা শেষে আরও স্পষ্ট হল সংঘর্ষবিরতির বার্তা। গেহলট বললেন, ‘সব ভুলে, সবাইকে ক্ষমা করে এগিয়ে যেতে হবে।’ ক্ষুব্ধ বিধায়কদের উদ্দেশ্যেও বলেন, ‘আপনারা চাইলে পরে আবার আমার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। ‘

আজ, শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বিধানসভার অধিবেশন। বিরোধী দলনেতা গুলাবচাঁদ কাটারিয়া জানিয়ে দিয়েছেন, অধিবেশনের শুরুতেই সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনবেন তাঁরা। রাজ্য বিজেপির বক্তব্য, যে ভাবে জোড়াতালি দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে কংগ্রেস, তা তারা কিছুতেই করতে দেবে না বলে তারা জানিয়েছে। রাজস্থানের বিজেপি সভাপতি প্রশ্নও তোলেন যে, “মুখ্যমন্ত্রী কি পুলিশি ভয় দেখিয়ে বিধায়কদের হরিয়ানা থেকে নিয়ে এলেন নাকি।” বিজেপির অনাস্থার পাল্টা হিসেবে এ দিন বিধায়কদের বৈঠকে গেহলত জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা আস্থাভোট করাব।’ তাঁর কথায়, ‘১৯ জনকে (বিক্ষুব্ধ বিধায়ক) ছাড়াও সংখ্যা প্রমাণ হয়ে যেত, কিন্তু তাতে আনন্দ থাকত না। এ বার আমরা একজোট হয়ে সংখ্যা প্রমাণ করব।’ সচিনও জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর অনুগামীরা অধিবেশনে যোগ দিতে সময়েই পৌঁছে যাবেন।

বিষয়টা হলো আর কিছুই নয়, কংগ্রেস যখন ব্যস্ত নিজের ঘর গোছাতে, তখন বসে নেই বিজেপিও। এ দিন জয়পুরে বৈঠক করেন বিজেপি বিধায়কেরা। বৈঠকে ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়াও। তারপর এই বৈঠক থেকে বেরিয়ে তিনি সোজা চলে যান রাজভবনে, রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে। সব মিলিয়ে রাজস্থান বিধানসভার এই অধিবেশন যে বেশ ভালই মসালাদর হতে চলেছে তা বলা যায় নিঃসন্দেহে।