সরকারের লকডাউন আরোপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অর্থনীতি, দাবি সুপ্রিম কোর্টের

0

পায়েল ভড়, নয়াদিল্লি : সরকারের কঠোর লকডাউন চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে ভারতের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বুধবার জানাল সুপ্রিম কোর্ট।

‘জান হ্যায় তো জাহান হ্যায়’- মানুষের জীবন বাঁচানোর তাগিদে দেশ জুড়ে গত ২৪শে মার্চ থেকে কোভিড-১৯ মহামারীর মোকাবিলায় কঠোরভাবে লকডাউন পালন করা হয়। লকডাউনের এই সময়ে স্বাস্থ্য ও নমুনা পরীক্ষার পরিকাঠামোর উন্নতিতে যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়। সময়মতো সংক্রমণ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার ফলে এই ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ পর্যন্ত দেশে মোট সংক্রমিতের মধ্যে ৪১ শতাংশ চিকিৎসাধীন। কঠোরভাবে লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ফলে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। ‘জান ভি জাহান ভি’- এই কৌশল অনুসরণ করে জীবনের সঙ্গে জীবিকা রক্ষার উদ্দেশে ভারত পয়লা জুন থেকে ‘আনব্লক’ পর্যায়ে ঢুকেছে। বিভিন্ন পরিষেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমশ শুরু হচ্ছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ন্যূনতম রাখতে এবং অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করতে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক পর্যায়ক্রমে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী নানা নীতি গ্রহণ করেছে।

লোন স্থগিত মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি এমআর শাহের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশের সময় ব্যাংকগুলির দ্বারা নেওয়া অতিরিক্ত সুদের বিজয়ের কারণ কেন্দ্রের কাছে পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে এবং কেন ব্যাঙ্ক এখনও এই বিষয়ে হলফনামা জমা দেয়নি তার কারণটাও জানানোর কথা বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ কেন্দ্রের প্রতিনিধি সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতাকে স্থগিতাদেশে হলফনামা কখন দাখিল করবে সে সম্পর্কে একটি সময়রেখা দিতে বলা হয়েছিল। এরপরে মেহতা হলফনামাটি দাখিলের জন্য এক সপ্তাহের সময় বাড়িয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতি এমআর শাহ এমনকি মেহতাকে বলেছিলেন যে কেন্দ্রের “ব্যবসায়” সম্পর্কে ভাবার সময় এখন নয়। আরবিআই এর আগে গ্রাহকদের নির্দিষ্ট মেয়াদী লোন এবং ইএমআই প্রদানের ক্ষেত্রে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ ঘোষণা করেছিল। স্থগিতাদেশটি ৩১আগস্টে শেষ হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here