পুলওয়ামা বোমা হামলাকারীদের নজরে ছিল আন্তর্জাতিক মিডিয়াও: এনআইএ

0

নয়াদিল্লি: জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের ভাগ্নে মোহাম্মদ উমর ফারুক, যিনি ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ -এ পুলওয়ামায় হামলা চালিয়েছিল সে বিবিসির হয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের একটি দলকে লক্ষ্য করতে হামলা করতে চেয়েছিল। বিবিসি-এর যে দল আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী আদিল আহমদ দারের বাবা গোলামের সাক্ষাত্কার নেওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এমনটাই জাতীয় তদন্তকারী দল (এনআইএ) তাদের দায়ের করা চার্জশিটে উল্লেখ করেছে।

ফেডারেল তদন্ত সংস্থা উমর ফারুক এবং তার পাকিস্তানের আত্মীয় আম্মার আলভির মধ্যে ২০১৯ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারির কথোপকথনের কথা উল্লেখ করেছে। যেখানে তিনি উপত্যকায় থাকা বিবিসি সাংবাদিকদের টার্গেট করার অনুমতি চেয়েছিন। কারণ তার বিশ্বাস ছিল যে এই আক্রমণটি জেএমকে আরও আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেবে। এটাই সত্য যে সন্ত্রাসবাদীদের মধ্যে পুলওয়ামা নিয়ে কি কি কথোপকথন হয়েছে সেই পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে এনআইএ। তবে হামলার পরে উপত্যকায় বিদেশী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন কি না তা স্পষ্ট নয়।

এনআইএ-এর চার্জ শিট অনুসারে আলভী অবশ্য ফারুককে “আপাতত পুলওয়ামার হামলার সাফল্য পালন করতে” বলেছিলেন এবং সাংবাদিকদের আক্রমণ করার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল। তবে জাতীয় তদন্তকারী দলের চার্জশিটে বিবিসি সাংবাদিকদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। চার্জশিটে ফারুক, আজহার, আবদুল রউফ আসগর এবং আরও ১৫ জনের নাম অভিযোগপত্রে দেওয়া হয়েছে। পুলওয়ামা হামলার মূল হ্যান্ডলার হিসাবে নাম দেওয়া হয়েছে আলভির (৪৬)। এনআইএ আলভির ২০১৬ সালের শেষের ছবি খুঁজে পেয়েছে, যেখানে তাকে ফারুকের সাথে আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশের সাংগিনের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে দেখা গিয়েছিল। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে যে, পুলওয়ামার হামলার পরেও কাশ্মীরে বন্দী ছিলেন ওমর ফারুক। সে “উদ্বিগ্ন” হয়েছিল যখন আত্মঘাতী বোমা হামলার পরপরই আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তান আজহার ও আবদুল রউফ আসগর ৪৪ জন সন্ত্রাসী সন্দেহভাজনকে আটক করেছিল।

তবে এনআইএ চার্জশিটে একটি কথোপকথনের অডিও পেশ করেছে যেখানে, বলা হয়েছে, “জেএমের একটি লঞ্চ প্যাডের একজন হ্যান্ডলার, যার সাথে ফারুকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, সে তাকে জানিয়েছিল যে আইএসআই (পাক গোয়েন্দা সংস্থা) তাদের জানিয়েছে যে গ্রেপ্তারটি কেবল একটি লোকদেখানো এবং তাদের নেতাদের শিগগিরই মুক্তি দেওয়া হবে।” এনআইএ ফারুকের ফোনের কয়েকশ ভিডিও ক্লিপ, ভয়েস নোট এবং হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ খুঁজে পেয়েছে যাতে জেএম সন্ত্রাসবাদীদের ভারতে পাঠানোর আগে তাদের উদযাপন, প্রশিক্ষণ এবং অনুশীলন করতে দেখা যায়। কিছু ভিডিওতে দেখা গিয়েছে তাদের পরিকল্পনা এবং তহবিল স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা করে করতে।

এনআইএ-র ডিরেক্টর জেনারেল ওয়াই সি মোদী বলেছেন, “আমাদের চার্জশিট এই ভয়াবহ ও বর্বর হামলার আসামির বিরুদ্ধে সংগৃহীত সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ, ফরেনসিক, ডকুমেন্টারি এবং মৌখিক প্রমাণের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। চার্জশিটে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানো এবং কাশ্মীরি যুবকদের উস্কে দেওয়া ও উস্কে দেওয়ার জন্য পাকিস্তান ভিত্তিক সংস্থার সর্বাত্মক জড়িততার রেকর্ড করা হয়েছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here