লকডাউনে হেঁটে বাড়ি ফিরতে গিয়ে পথ দুর্ঘটনায় ২৯ হাজারেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু: তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

0

নয়াদিল্লি: করোনা মহামারীর জেরে দেশে লকডাউন চলাকালীন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পরিযায়ী শ্রমিক। লকডাউনের সময় বিপদে পড়েছিল তারা, আর্থিক কষ্টে পরিযায়ী শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল পথ অতিক্রম করে বাড়ী ফিরছিল। সেই সময় অনেকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এক সপ্তাহ আগে কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক লোকসভায় জানিয়েছিল, লকডাউনের সময় বাড়ি ফিরতে গিয়ে কতজন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে সেই পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। সেই নিয়ে বিরোধীদের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্র সরকারকে।

লোকসভার অধিবেশনে কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছিলেন, “লকডাউনে বাড়ি ফেরার পথে কত জন পরিযায়ী শ্রমিক মারা গিয়েছেন, এই সরকার তা জানে না। জানার চেষ্টাও করেনি। অথচ, রিপোর্টে প্রকাশ, গোটা দেশে এক হাজারের উপর পরিযায়ী শ্রমিক মারা গিয়েছেন। ক’জনের চাকরি গিয়েছে, এ নিয়ে প্রশ্ন করলেও কেন্দ্রের উত্তর, কোনও তথ্য নেই। এটা তো তথ্যহীন একটা সরকার।” বলা বাহুল্য যে, করোনা লকডাউনের সময় পরিযায়ীদের সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ কুমার গাংওয়ার বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যু নিয়ে কোনও তথ্যই কেন্দ্রের কাছে নেই তাই তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নও ওঠে না। এর পরেই সমালচনায় সরব হন বিরোধীরা।

তবে অবশেষে সোমবার শ্রমমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে পায়ে হেঁটেই বাড়ি ফিরেছেন ১ কোটিরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। ওই সময়ে মোট ১.০৬ কোটি মানুষ নিজেদের রাজ্যে ফিরে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ওই সময় রাস্তায় হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় ৮১,৩৮৫ টি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে পথ দুর্ঘটনায় ২৯,৪১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনায় মৃত পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্পর্কে পৃথক তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।

পাশাপাশি রবিবার কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছিলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে ৯৭ জন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই বিষয়ে সরকারকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ট্যুইট করেছিলেন, “মোদী সরকার জানে না লকডাউন চলাকালীন কতজন পরিযায়ী শ্রমিক মারা গিয়েছে বা কত মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। আপনি গণনা করেন নি তাতে কি, কেউ মারা গেল না? হ্যাঁ, তবে দুর্ভাগ্যজনক যে সরকারের উপর কোনও প্রভাব পড়েনি। বিশ্ব তাদের মরতে দেখেছিল কিন্তু মোদী সরকার নিরব রয়ে গিয়েছে।”