হাথরাসে ঘটনায় ১৪৪ ধারা অমান্য ও হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে রাহুল-প্রিয়ঙ্কার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের

0

লখনউ: হাথরাসের ১৯ বছরের তরুণীকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনা নিয়েই এখন উত্তাল হয়ে রয়ে রয়েছে গোটা দেশ সহ উত্তরপ্রদেশ। এই ঘটনার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢ়রা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ সরকার জারি করেছিল ১৪৪ ধারা। তবে যাওয়ার পথে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ তাদের যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে থামিয়ে দেয়, তারপরে উভয় নেতাই সেখান থেকে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময়ে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়, সেই ঘটনা নিয়েই পুলিশের সঙ্গে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। এবার উত্তর প্রদেশ পুলিশ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার অপরাধে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ ২০৩ জন কংগ্রেস নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশ অভিযোগ করেছে আইন অমান্য করেছেন কংগ্রেস নেতারা। য় রাহুল ও প্রিয়ঙ্কার বিরুদ্ধে ৩৩২ ধারা, ৩৫৩ ধরা, ৪২৭ ও ৩৫৪, ১৪৭, ১৪৮ সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাথরাসের ঘটনার পরেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিলেন। অন্য দিকে ২ অক্টবর গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে গান্ধীজি উক্তি উল্লেখ করে বিজেপি সরকারকে খোঁচা দিয়ে রাহুল গান্ধী ট্যুইট করে লিখেছিলেন, ‘অসত্যকে সত্য দিয়ে জয়’ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে তিনি আরও লেখন, “আমি দুনিয়ায় কাউকে ভয় পাব না… অসত্যকে সত্য দিয়ে জিতব আর অসত্যের বিরোধ করতে গিয়ে সমস্ত কষ্ট সহ্য করব।”

রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী হাথরাসে আসার খবর পাওয়ার সাথে সাথে ইউপি পুলিশ হাথরাসে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল। এই জন্য করোনার মহামারীর অজুহাত হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। প্রতিটি জেলায় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। জেলার সমস্ত সীমানা সিল করে দেওয়া হয়েছিল। রাহুল গান্ধী সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতারা যখন হাথরাসের দিকে পায়ে হেঁটে যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ পুলিশ রাস্তার মাঝখানে তাদেরকে আক্রমণ করেন। রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদেরকে গালি দেওয়া হয়েছিল। যার কারণে রাহুল রাস্তায় পড়ে যান। তবে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ অভিযোগ করেছে রাহুল গান্ধীরা সেখানে হিংসা ছড়াবার চেষ্টা করেছেন।

ইউপি পুলিশের অযৌক্তিক পদক্ষেপের বিষয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছিলেন, “আমাদের হাথরাসে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমরা যখন সবাই রাহুল জির সাথে পায়ে হেঁটে গিয়েছিলাম, আমাদের বারবার থামানো হয়েছিল, বর্বর উপায়ে লাঠিচার্জ করা হয়েছিল। আহত হয়েছেন অনেক কর্মী। তবে আমাদের উদ্দেশ্য নিশ্চিত। অহঙ্কারী সরকারের লাঠি আমাদের থামাতে পারবে না। আমি এই লাঠিই কামনা করি, এই পুলিশ হাথরাসের দলিত কন্যার প্রতিরক্ষায় দাঁড়াবে।”উত্তরপ্রদেশের সেই ঘটনায় বহু রাজ্য উত্তরপ্রদেশ সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে। হাথরাসের ঘটনা নিয়ে বিজেপি বিরোধী দলগুলি বিজেপিকে তীব্র ভাবে কটাক্ষ করেছে। মোদীর ‘বেটি বাঁচাও’ স্লোগান শুধু ভোট পাওয়ার ধান্দা বলেই বিজেপি বিরোধীরা উল্লেখ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here