করোনা ভ্যাকসিন রাখার রেফ্রিজারেটর উপলব্ধের জন্য ভারত এবং লুক্সেমবুর্গের মধ্যে চুক্তি

0

নয়াদিল্লি: এক বছর ধরে করোনার ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাওয়া গোটা বিশ্ব শীঘ্রই স্বস্তি পেতে চলেছে। ভারত সহ বিশ্বের অনেক দেশেই এই রোগের ভ্যাকসিন নিয়ে দ্রুত কাজ করছে এবং অনেক বিশেষজ্ঞের দাবি এটি আগামী বছরের শুরুর দিকে ভারতে জনগণের জন্য উপলব্ধ হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য প্রস্তুতিও শুরু করেছে। লুক্সেমবুর্গের প্রধানমন্ত্রী জাভিয়ের বেট্টেল গুজরাটে একটি ভ্যাকসিন পরিবহন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করেছিলেন, যে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী মোদী গ্রহণ করেছিলেন। এর ফলে দেশের সমস্ত গ্রামে এই টিকা সহজলভ্য করা সহজ হবে।

দিল্লি ও আহমেদাবাদে অবস্থিত সরকারী সূত্রে জানা গেছে, লুক্সেমবুর্গের সংস্থা বি মেডিকেল সিস্টেমগুলি সোলার ভ্যাকসিন রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার এবং পরিবহন বাক্স সহ একটি ভ্যাকসিন কোল্ড চেইন তৈরি করতে আগামী সপ্তাহে একটি উচ্চ পর্যায়ের দল গুজরাটে পাঠাচ্ছে। যেহেতু পুরো পরিকল্পনা তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে তাই সংস্থা লুক্সেমবুর্গের একটি ফ্রিজে বক্স চাইলে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি ফ্রিজে পরিবহন বাক্সের মাধ্যমে ভ্যাকসিনটি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে – ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সুরক্ষিত করা যাবে।

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিজেই লুক্সেমবুর্গের প্রস্তাব পর্যবেক্ষণ করছেন। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত সন্তোষ ঝাও গুজরাটের সাথে ব্যবস্থাপনাকে চূড়ান্ত করতে ২০ নভেম্বর ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং ডেপুটি-সিইওর সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। সৌর, কেরোসিন, গ্যাস ও বিদ্যুত দ্বারা চালিত এই রেফ্রিজারেটেড বাক্সগুলি ২০২১ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারে। একই সময়ে বি মেডিকেল সিস্টেমস কোম্পানির সম্পূর্ণ ফ্ল্যাজ প্ল্যান্ট গুজরাটের দ্বিতীয় ধাপে পুরোপুরি প্রস্তুত হবে। এর পরে কেবল ভারতের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হবে না, তবে এটি অন্য দেশেও রফতানি করা যেতে পারে।

একই সাথে সরকারী সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সামনে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের সময় ১৯ নভেম্বর এই প্রস্তাবটি বেট্টেল রেখেছিলেন। ভারতে করোনার ভ্যাকসিন বিতরণ নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীকালে সংস্থাটি গুজরাট সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।