কৃষি আইন নিয়ে শীর্ষ আদালতের কমিটির মুখোমুখি হতে নারাজ কৃষকরা, উলটো সুর কেন্দ্রের

0

নয়াদিল্লি : নয়া কৃষি আইন নিয়ে উত্তাল হয়েছে সারা দেশ। কেন্দ্রের সঙ্গে কৃষক সংগঠনের আট দফা বৈঠকেও মেলেনি সুরাহা। দেড় মাস ধরে দিল্লীতে কৃষকেরা আন্দোলনরত। সেই আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। ক্ষোভে হরিয়ানার কৃষকরা মুখ্যমন্ত্রীর সভা ভাঙচুরও করেছে। জল গড়িয়েছে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। সোমবার কৃষি আইন নিয়ে মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নতুন কৃষি আইন আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যার ফলে নয়া কৃষি আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেয়েছে কেন্দ্র সরকার।

যদিও এখুনি আইন বাতিলের পথে হাঁটতে চাইছে না শীর্ষ আদালত। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ৷ সেইমতো মঙ্গলবার আইন পর্যালোচনা করতে বিশেষ কমিটি গঠন করল সুপ্রিম কোর্ট। কৃষি আইনের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখাই হবে এই কমিটির কাজ। তবে সেই কমিটি কোনোভাবেই নির্দেশ দেবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করে কমিটিকে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালতের।

সেই কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছে কেন্দ্র। তবে অসম্মতি জানিয়েছে কৃষকরা। তাঁরা আগেই জানিয়েছিলেন যে, কোনও কমিটির মুখোমুখি তাঁরা হতে চান না। শীর্ষ আদালতের এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, “কমিটি গঠন একটা ভালো প্রস্তাব। সরকার এর বিরোধিতা করবে না।” সুপ্রিম কোর্টের বার্তা খুব স্পষ্ট,” সমস্যার আশু সমাধান চাই। এটা রাজনীতি নয়। তোমাদের সহযোগিতা করতে হবে।”

রায় ঘোষণা করে এদিন প্রধান বিচারপতি বলেন, ” আইন বাতিল করে দেওয়া একটা বিকল্প হতেই পারে। কিন্তু বিনা কারণে বাতিল করা যায় না। তাই একটা কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ওই কমিটি আমাদের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে। যাঁরা যাঁরা এই কৃষি আইন নিয়ে সমস্যার সমাধানে সত্যিকারের আগ্রহী, তাঁরা সবাই কমিটির মুখোমুখি হবেন। কমিটি কাউকে শাস্তি দেবে না। আমাদের কৃষক সংগঠনের সম্মিলিত মত চাই। আইনজীবীর মাধ্যমে কমিটির কাছে নিজেদের বক্তব্যকে তুলে ধরুন।”

গতকাল বিতর্কিত কৃষি আইন নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদে প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কোনও মন্তব্য করতে চাই না, কিন্তু আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের মন্তব্যে অত্যন্ত হতাশ৷ এই আইন প্রণয়নের আগে আদৌ কোনও আলোচনা হয়েছে কি না আমরা জানি না৷ দয়া করে আমাদের জানান কী হচ্ছে৷’

শুধু তাই নয়, কড়া মনোভাব বুঝিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘আপনারা এই আইনের প্রয়োগ স্থগিত রাখবেন নাকি আদালতকে সেই নির্দেশ দিতে হবে?’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here