লালকেল্লা কাণ্ড! কৃষক নেতাদের লুক আউট নোটিশ পাঠালো দিল্লি পুলিশ

0

নয়াদিল্লি: প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন ট্রাক্টর মিছিল নিয়ে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে বৃহস্পতিবার ২০ জন কৃষক নেতাকে লুকআউট নোটিশ পাঠাল দিল্লি পুলিশ। যোগীন্দ্র যাদব, বালদেব সিং সিরসা, বালবীর সহ বাকি শীর্ষ কৃষকদের নেতাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এদিন কেন চুক্তি লঙ্ঘিত হলো তার জবাব চেয়ে নোটিশ পাঠায় দিল্লী পুলিশ। তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে কৃষক নেতাদের। তার মধ্যে জবাব দিতে হবে তাদের।

টানাপোড়েনের মধ্যে ৩৪ টি শর্তের পরিবর্তে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন দিল্লীতে কৃষকদের ট্রাক্টর মিছিল করার অনুমতি দেয় দিল্লী পুলিশ। কিন্তু ওইদিন লালকেল্লা যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না কৃষকদের। তা আগেও নিশ্চিত করেছিল সংগঠনগুলি। তবে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন দেখা যায় কয়েকটি সংগঠন ব্যারিকেড ভেঙে লালকেল্লায় ট্রাক্টর নিয়ে ঢুকে পড়ে। এমনকি লালকেল্লার উপর সংগঠনের পতাকাও উত্তোলন করা হয়। লালকেল্লা কার্যত দখলে রাখে কৃষকরা। এই ঘটনা নিন্দিত হয় দেশজুড়ে। ইতিমধ্যেই দুটি কৃষক সংগঠন তাদের নাম সরিয়ে নিয়েছে আন্দোলন থেকে। অভিনেতা দীপ সিধুকে দিয়ে লালকেল্লায় নিশান সাহেবের পতাকা টাঙিয়ে আন্দোলনকে ‘কলুষিত’ করার অভিযোগও জানিয়েছেন কৃষকনেতারা।

জানা গিয়েছে, কৃষক-পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে প্রায় ৪০০ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, উস্কানিমুলক ভাষণ দিয়ে হিংসাত্মক ঘটনায় প্ররোচনা দিয়েছেন কৃষকনেতারা। কিন্তু কৃষকদের বক্তব্য তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে নাশকতা ও কুপ্রস্তাব করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। দিল্লির পুলিশ কমিশনার এস এন শ্রীবাস্তব বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে অত্যন্ত আধুনিক ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। দোষীদের রেয়াত করা হবে না।” এদিকে লালকেল্লা কাণ্ডের জেরে ১ ফেব্রুয়ারি কৃষকদের পার্লামেন্ট অভিযানকে বাতিল করেছে। বুধবার এই ঘোষণা করেন কৃষক নেতা দর্শন পাল। তিনি বলেন, “১ ফেব্রুয়ারি বাজেটের দিন সংসদ অভিযান আমরা বাতিল করেছি। তবে প্রতিবাদ চলবে। জানুয়ারির ৩০ তারিখ দেশজুড়ে জনসভা ও অনশন হবে।”