করোনা থেকে শিক্ষা! স্বাস্থ্যখাতে খরচ বৃদ্ধি ১৩৭ শতাংশ, বরাদ্দ ২ লক্ষ ২৪ হাজার কোটি টাকা

0

নয়াদিল্লি: অতিমারীই শিক্ষা দিল দেশকে। শেষ একবছরে সাধারণ মানুষ থেকে সরকার সবাই বুঝেছে ‘স্বাস্থ্যখাতের’ গুরুত্ব। কারণ বিগত দিনগুলিতে করোনার ধাক্কায় প্রকাশ্যে এসেছে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বহাল অবস্থা। তাই এবারের ‘নেভার রিটার্ন’ বাজেটে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক উন্নতিকরণে প্রথম থেকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের পরিকাঠামো ঠিক করা, স্বাস্থ্য ল্যাব তৈরি করা, ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিট তৈরি। এছাড়াও করোনার ভ্যাকসিন তৈরি ইত্যাদির কথা মাথায় রেখেই স্বাস্থ্যখাতে খরচ আগের বারের অর্থবর্ষের তুলনায় ১৩৭ শতাংশ বাড়াল কেন্দ্র।

২০২০ – ২১ অর্থবর্ষে স্বাস্থ্যখাতে খরচ ছিল মাত্র ৯৪ হাজার কোটি টাকা। ২০২১ – ২২ তা বারিয়ে করা হলো ২ লক্ষ ২৪ হাজার কোটি টাকা।বাজটের বক্তৃতার শুরুতেই নির্মলা ঘোষণা করেন ৬ টি মূল স্তম্ভের মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে ‘স্বাস্থ্য’। বিগত দিনগুলি থেকে শিক্ষা নিয়েই স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আগামির পরিকল্পনা করা হয়েছে এই বাজেটে। নতুন সংক্রমণ রুখতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্র। তাই অদূর ভবিষ্যতে কোনও নতুন সংক্রামক রোগ যাতে না ছড়ায়, আর ছড়ালেও তা যাতে বিপজ্জনক না হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

আর তাই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হচ্ছে। নতুন যে সব রোগের আশঙ্কা আছে, তা থেকে বাঁচতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যখাতে আগামী ৬ বছরে ৬৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা খরচ করা হবে। দেশের সব জেলায় তৈরি হবে স্বাস্থ্য ল্যাব। সারা দেশের ৬০২ জেলার প্রতিই ব্লকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার হাসপাতাল তৈরি করা হবে। ১৭টি নতুন পাবলিক হেলথ ইউনিট সক্রিয় হবে গোটা দেশে। ১৫টি হেলথ এমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার খোলা হবে। খোলা হবে ৭ টি বায়ো সেফটি ল্যাব। আগামী দিনে দেশের গ্রামাঞ্চলের অনাক্রম্যতা বাড়াতে সূচনা হবে পুষ্টি অভিযানের। ৫০০টি শহরে লিকুউড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টে ৮৭ হাজার কোটি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, চলতি বছরে করোনার টিকাকরণের বিপুল হারে বরাদ্দ করেছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, এবছর করোনার টিকাকরণের জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। আমি আশ্বস্ত করছি, টিকাকরণের জন্য আরও টাকার দরকার পড়লে, তা সরকার দেবে। অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে দেশের সাধারণ জনতাকে আশ্বস্ত করবে।