মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গকে ভারত ভূখণ্ড থেকে আলাদা করতে চিঠি বিচ্ছিন্নতাবাদী খলিস্তানপন্থীদের

0

নয়াদিল্লী: দে‌শজুড়ে চলা কৃষক আন্দোলনে বারবার খালিস্তানের নাম উঠে আসছে। অভিযোগ, আন্দোলনে ইন্ধন যোগাচ্ছে খালিস্থানপন্থীরা। সেই নিয়ে সম্প্রতি বিতর্ক সর্বজনবিদিত। জোর চর্চা শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রকে পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করার দাবি তুলল খলিস্তানপন্থী শিখ ফর জাস্টিস। সেই মোতাবেক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকরকে চিঠিও পাঠিয়েছে তারা। শুধু তাই নয়। কিভাবে আলাদা হওয়া যায় তার পদ্ধতি, সমাধানও বাতলে দিয়েছে তারা। যা নিয়ে দেশভাগ ইস্যুতে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে এমনিতেই সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সেলেবের হস্তক্ষেপের জেরে দেশের সার্বভৌমত্বের উপর বারবার প্রশ্ন উঠছে। এরই মধ্যে খালিস্থানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই ধরণের চিঠি বিতর্ককে অন্য মাত্রা দেবে।

দুই রাজ্যের পৃথক নিজস্ব আলাদা সংস্কৃতি, আদর্শ পরিচিত রয়েছে। আর এই আলাদা সংস্কৃতি, আদর্শ, পরিচিতির সুযোগ নিচ্ছে রাষ্ট্র তথা কেন্দ্র। কেন্দ্র নিজেদের অপসংস্কৃতি জোরপূর্বক চাপিয়ে দিচ্ছে রাজ্য গুলির উপর। যার ফলে অদূর ভবিষ্যতে দুই রাজ্য নিজস্বতা হারাতে পারে। আর তাই নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচাতেই ভারত থেকে আলাদা হয়ে উচিত মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গে।

এই দুই রাজ্য সংস্কৃতিগত ও আত্মসম্পদের দিক থেকে সমৃদ্ধ। আর এই দুই রাজ্যের সম্পদকে ধ্বংস করছে কেন্দ্র। তাই ভারতের অংশ হিসেবে না থেকে তাদের নিজেদের রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা উচিত। দুই রাজ্যেরই উচিত ভারত থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন একটি জনপদ হিসেবে অস্তিত্ব রক্ষা। দুই রাজ্যেকেই পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়ার ঘোষণা করা উচিত। দাবি করেছে শিখ ফর জাস্টিস। খালিস্তানপন্থীদের এই প্রস্তাব দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কারণ সার্বভৌমত্বের দিক থেকে বৈচিত্র্যই ভারতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আর সেই বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে দেশ থেকে আলাদা হওয়ার দাবি ওঠায় বিতর্ক শুরু হয়েছে।

চিঠিতে SFJ-এ উল্লেখ করেছে, এই দুই রাজ্যের মানুষেরই সংস্কৃতির একটা ইতিহাস রয়েছে। যা বংশপরম্পরায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বয়ে চলেছে। কিন্তু, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যকলাপে এই দুই রাজ্যেই ছড়াচ্ছে অপসংস্কৃতি। দুই জনপদের মূল সংস্কৃতি ও উৎকর্ষতা থেকে ছিন্ন করতে চাইছে কেন্দ্র। তা রুখতে অবিলম্বে বাংলা মহারাষ্ট্রকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জন করতে হবে।

খলিস্তানপন্থী শিখ ফর জাস্টিস (SFJ) এই সমস্যার সমাধানও বিশদে জানিয়েছে চিঠিতে। তাদের মতে, ভারতীয় সংবিধানেই লুকিয়ে রয়েছে এর সমাধান। এমনকি সেই আইনের দিক থেকেও খলিস্তানপন্থী শিখ ফর জাস্টিস দল সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।খলিস্তানপন্থীদের এহেন বিস্ফোরক দাবিতে চমকে উঠেছেন রাজনীতিবিদেরাও। SFJ-এর দাবি, ‘১৯৪৭ সাল থেকে বাংলা ও মহারাষ্ট্রের মহার্ঘ সম্পদ লুঠ করছে ভারত সরকার। বশ্যতা থেকে মুক্ত হওয়ায় ক্ষমতা রয়েছে রাজ্যের নির্বাচিত আইনসভার হাতেই।’

ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা হতে কী করতে হবে বাংলার সরকার ও মহারাষ্ট্র সরকারকে সেই নিয়েও দিশা দেখিয়েছে খলিস্তানপন্থী শিখ ফর জাস্টিস দল। এই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, দুই রাজ্যের আইনসভারই একতরফা ভাবে আইন পাশ করে ভারতীয় ইউনিয়ন থেকে আলাদা হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এই পদক্ষেপ সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক আদালতের আওতায় চলে আসবে এই ইস্যুটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here