‘আংশিক’ গণতান্ত্রিক ভারত! ফ্রিডম হাউসের রিপোর্ট ‘বিভ্রান্তকর’, দাবি কেন্দ্রের

0

নয়াদিল্লী: মোদীর জামানায় খর্ব হয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার। নেই মত প্রকাশের স্বাধীনতা। সংখ্যালঘুরাও বিমন্ন। মানুষের একের পর এক নূন্যতম অধিকারগুলি খর্ব হওয়ার অভিযোগ উঠছিল অনেক দিন ধরেই। সম্প্রতি এবার তাতেই শিলমোহর দিয়েছে এই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা। ভারতের গণতন্ত্রকে ‘আংশিক’ অবাধ বলে ব্যাখ্যা করেছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ফ্রিডম হাউস। ১৯৯৭ এর পর এই প্রথম পদস্খলন। যার জেরে চূড়ান্ত বিড়ম্বনায় মোদী সরকার।

স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্র কড়া ভাষায় সেই রিপোর্টের প্রতিবাদ করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধীনতার অবনমনের এই রিপোর্ট সামনে আসার পরেই নড়েচড়ে বসে নয়াদিল্লি। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফ্রিডম হাউসের রিপোর্ট পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর’। মোদী সরকারের ব্যাখ্যা, কেন্দ্রে একটি দলের সরকার থাকলেও দেশের অনেক অঙ্গরাজ্যেই অন্য দল বা জোট সরকার চালাচ্ছে। ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ভার সংশ্লিষ্ট রাজ্যের। ফলে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভাবে একটি দল বা সরকারকে দোষারোপ করা অনুচিত।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে এই আন্তর্জাতিক সংস্থা ভারতকে ‘স্বাধীন’ হিসেবেই চিহ্নিত করেছিল। কিন্তু শেষ বছরে এক বছরে মোদী সরকারের নীতিতে একধিক পরিবর্তন হয়েছে। যা অনেকাংশে নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার বিরোধী। সরকারের বিরোধী কথা বললেই জুটছে রাষ্ট্রদ্রোহীর তকমা। ইউএপিএ দিয়ে একাধিক সমাজকর্মীদের আটকে রাখা হচ্ছে জেল হেফাজতে। বেড়েছে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘দাঙ্গা’র ঘটনাও সামনে এসেছে। ফ্রিডম হাউসের সরাসরি অভিযোগ, হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার হিংসা ও বৈষম্যের রাজনীতিকে মদত দিচ্ছে। তাই ২০২১ এর ‘স্বাধীনতা সূচক’এ ভারতকে ‘আংশিক’ অবাধ বলেই চিহ্নিত করা হয়েছে ওই সংস্থা।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে স্বাধীনতা সূচকে ১০০-র মধ্যে ৭৭ পেয়েছিল ভারত। ২০২০ সালে তা নেমে এসেছিল ৭১-এ। এ বার আরও কমে স্বাধীনতা সূচকে ভারতের প্রাপ্ত ‘স্কোর’ ৬৭। শুধু তাই নয়, রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা বেড়েছে, রাজনৈতিক এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিসর কমেছে, মানবাধিকার কর্মী এবং সাংবাদিকদের উপর সরকারি চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এসেছে দিল্লিতে সিএএ বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়েরের প্রসঙ্গও।