আতঙ্ক বাড়াচ্ছে করোনার নয়া স্ট্রেন: কোন পথে এগাবে দেশ এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মোদী

0

নয়াদিল্লি: করোনা অতিমারি আবারও চিন্তা বাড়াচ্ছে দেশে। টানা বেশ কয়েকদিন ধরেই আবারও দেশের কোভিড-১৯ গ্রাফ টি ঊর্ধ্বমুখী। সেই একই ধারা বজায়  রয়েছে চলতি সপ্তাহেও। এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে লকডাউনের। ভ্যাকসিনও দেওয়া হচ্ছে কিন্তু তাতেও কমছে না সমক্রমণ সেই সঙ্গে নয়া স্ট্রেন চিন্তা বৃদ্ধি করছে। আগামী দিনে কি করণীয় তা নিয়ে আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

২০২০ সালে করোনা আঘাত হানার পর থেকেই অনেক বারই রাজ্যের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মুখ্যমন্ত্রিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। করোনা সংক্রমণ কমাতে কি করা যায় তাঁর পরামর্শ যেমন দিয়েছেন তেমনি মুখ্যমন্ত্রীদের থেকেও নিয়েছেন পরামর্শ। আবারও দেশে করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার জন্য বৈঠকে বসবেন মোদী। গত বছর যেমন এই সময়ে ঘোষিত হয়েছিল লকডাউন। তবে এবার কি সিদ্ধান্ত নেন তার দিকেই তাকিয়ে দেশ। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আমাদের দেশে শেষ  সোমবার পর্যন্ত অতিমারী এই করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন মোট ২৬,২৯১ জন। একই সময়ের মধ্যে করোনার দ্রাপটে প্রাণ হারিয়েছেন ১১৮ জনের। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় এই মারণ ভাইরাসের কবল থেকে সুস্থ হয়েও ফিরেছেন ১৭,৪৫৫ জন।  গোটা বিশ্বের সাথে ভারতেও ২০২০ সালে মার্চের প্রথমার্ধ্ব অর্থাৎ গত বছরের এই সময় থেকে নোভেল করোনা ভাইরাসের দাপট বেড়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ভারতে মোট কোভিড আক্রান্ত ১ কোটি ১৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ৩৩৯। এরই মধ্যে অবশ্য ১ কোটি ১০ লক্ষ ৭ হাজার ৩৫২ জন সুস্থও হয়ে ফিরেছেন।বর্তমানে অ্যাকটিভ কেস সংখ্যা ২ লক্ষ ১৯ হাজার ২৬২টি। এখনও পর্যন্ত করোনার প্রকোপে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৭২৫ জন।

নতুন বছরের শুরুতেই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দুটি ভ্যাকসিন দিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে গণ টিকাকরণ প্রক্রিয়া। এখনও পর্যন্ত টিকাকরণের সংখ্যা ৩ কোটি প্রায়। তার ফলেই পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি হলেও বর্তমানে এই নয়া ব্রিটেন স্ট্রেন ফের বিপদ বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষত মহারাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতিতে চিন্তা বাড়ছে বেশ। নাগপুরে গতকাল অর্থাৎ রবিবার থেকেই চালু হয়েছে আবারও পূর্ণাঙ্গ লকডাউন, চলবে ২১ তারিখ পর্যন্ত। এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি রাজ্যের করোনা গ্রাফও বেশ ঊর্ধ্বমুখী। কেন্দ্রের মাথাব্যথা মূলত এখন মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক-সহ ৮ রাজ্য নিয়ে। কোথাও কোথাও তো নাইট কারফিউ জারি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে জোর কদমে । কিন্তু বিলিতি এই স্ট্রেন যে সংক্রমণ ক্ষমতা নিয়ে আবারও প্রকোপ বাড়ানো শুরু করেছে, তাতে কি এভাবে এই প্রকোপকে আটকানো সম্ভব? তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।