শিক্ষা এবং চাকরি সবেতেই সংরক্ষণ আর কত প্রজন্ম! অগ্রসর কি হয়নি?, কেন্দ্রকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

0

নয়াদিল্লি: সংরক্ষণের ছাড় আজকের নয়, শিক্ষা এবং চাকরি উভয়ক্ষেত্রেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলছে অবাধ সংরক্ষণ। তবে এখনও আর কত প্রজন্ম ধরে এই সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া যাবে? শিক্ষা-চাকরিতে সংরক্ষণের প্রশ্ন তুলে এবার কেন্দ্রকে বিঁধলেন সুপ্রিম কোর্ট। এদিন বিচারপতি অশোক ভূষণের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ একই সঙ্গে বলেন, “শিক্ষা কিংবা চাকরিতে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে মেধাই হল মূল চাবিকাঠি। তাই চাকরি কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয় না। এক্ষেত্রে সমানাধিকারের প্রশ্নই উঠে আসছে।

সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যদি ৫০ শতাংশের অথবা কোনও ঊর্ধ্বসীমাই না-থাকে, সে ক্ষেত্রে সকলের সমান অধিকারের বিষয়টিরই বা কী হবে?” উল্লেখ্য, চাকরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে মরাঠাদের জন্য ১৬% সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে বিল পাশ করেছিল মহারাষ্ট্র। আর সেই বিলকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলা গিয়ে ঠেকেছে সুপ্রিম কোর্টে, আর তার শুনানিতেই আজ এমন মন্তব্য করেছে সাংবিধানিক বেঞ্চ। সরাসরি কেন্দ্রকে স্পষ্ট করে তাঁদের প্রশ্ন, “অনগ্রসর কোনও শ্রেণিই অগ্রসর হয়নি? আর কত প্রজন্ম ধরে সংরক্ষণ চলবে?”

শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানিয়ে অবশ্য অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতাগি বলেন, ”১৯৩১ সালে পাশ হওয়া বিলে এই প্রস্তাব ছিল। তবে তা এখন পুনর্বিবেচনা করা উচিত। স্বাধীনতার পরে ৭০ বছর কেটে গিয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালাচ্ছে। আমাদের কি মানতে হবে, কোনও উন্নয়ন হয়নি এবং অনগ্রসর কোনও শ্রেণিই অগ্রসর হয়নি? উন্নয়ন হলেও অনগ্রসর শ্রেণিভুক্তের সংখ্যা ৫০% থেকে কমে ২০% হয়নি। দেশে এখনও অনাহারে মৃত্যু হয়। ৩০ বছরে অনগ্রসর শ্রেণির মানুষও বেড়েছে।”