বাংলার ভোটের মরশুমে প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর, লক্ষ্য মতুয়া ভোট সুনিশ্চিত করা

0

নয়াদিল্লি: বাংলার ভোটের মরশুমে পার্শ্ববর্তী বন্ধুদেশ বাংলাদেশে করোনা পরবর্তী সময়ে প্রথম বিদেশ যাত্রা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। ২৬ মার্চ ও ২৭ মার্চ দুদিনের বাংলাদে‌শ সফর। সফরের প্রথম দিনই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার দেশে প্রধানমন্ত্রীর সফরের উপলক্ষ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী হলেও পশ্চিমবঙ্গের মতুয়া ভোট ব্যাংক আসন্ন নির্বাচনে সুনিশ্চিত করার রাজনৈতিক অভিসন্ধিও এড়িয়ে যাওয়ার নয়।

কারণ সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২৭ মার্চ শনিবার প্রধানমন্ত্রী যাবেন, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি ও কাশিয়ানি উপজেলার ওড়াকান্দি মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনে। আবার ওই একই দিনে সাতক্ষীরার শ্যামনগর যশোরেশ্বরী মন্দিরে পূজো দেবেন তিনি। তাই বাংলাদেশ থেকে হিন্দুত্বের বার্তা দেওয়া ও পশ্চিমবঙ্গের মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের সেন্টিমেন্টকে নাড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নরেন্দ্র মোদীর। লোকসভা নির্বাচনে নাগরিকত্ব ইস্যুকে উসকে দিয়ে মতুয়াদের সিংহভাগ ভোট পকেটে পুড়েছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু একুশেও নাগরিকত্ব না মেলায় সিএএ নিয়ে চাপা ক্ষোভ রয়েছে মতুয়াদের অন্দরেই। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনি নিয়ে কেন্দ্রের গড়িমসিতে অতিষ্ঠ মতুয়াদের বিরাট অংশ। যা ভালোই জানেন প্রধানমন্ত্রী। তারউপর নাগরিকত্ব নিয়ে মতুয়াদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আশ্বাসে চিড়ে ভিজছে না। গতবছর বলেছেন, করোনা মিটলেও সিএএ কার্যকর হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঠাকুরনগরে সভা থেকে করোনার টিকাকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই দেশ জুড়ে সিএএ আইন কার্যকর করার কথা বলেন অমিত শাহ।

সম্প্রতি রাজ্য গেরুয়া শিবিরের ইস্তাহার ঘোষণার সময়, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সিএএ কার্যকর করার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য একুশের বঙ্গ ভোটে মতুয়া ভোট বড় ফ্যাক্টর।পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ লাগোয়া অঞ্চলে তিন কোটি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। যার মধ্যে প্রায় দেড় কোটি ভোটার। আর এই বিরাট সংখ্যক মহুয়া মানুষ ৩০ টি বিধানসভার ভবিষ্যত নির্ধারক। এমনকি আরও ৬৩ টি আসনে তাঁরা নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারেন। পাশাপাশি মোদির এ সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকগুলো চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অন্যতম। এছাড়া তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারত দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে আসবে বলেও জানা গিয়েছে।

ভারত সরকারের তরফে এক সফরকে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের নাগরিকদের যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যখ্যা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই টুইট করছ জানিয়েছেন, “আমি অত্যন্ত খুশি যে করোনা পরবর্তীকালে আমার প্রথম বিদেশ সফর সেই প্রতিবেশী দেশে যাঁদের সঙ্গে আমাদের গভীর সাংস্কৃতিক এবং ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে।” তবে পশ্চিমবঙ্গের ভোট মরশুম এক তীরে অনেকগুলি পাখি মারার রাজনৈতিক কৌশলী সফর প্রধানমন্ত্রীর। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের নিরিখেও প্রধানমন্ত্রীর এই বাংলাদেশ সফর তাৎপর্যপূর্ণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here