দুয়ারে কড়া নাড়ছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, ভোটের কারণে শিকেয় উঠেছে দু’গজের দুরত্ব

0

কলকাতা: জনসভা, প্রচার, রোড শো- এ ভোটের দামামা সজোরে বাজলেও করোনা বিধি কার্যত শিকেয়। কোথায় মাস্ক, কোথায়ই বা দূরত্ব ! বাম-কংগ্রেস- তৃণমূল-বিজেপি প্রতিটা দলের সভায় কান পাতলেই শোনা যায় করোনা প্রতিশ্রুতির কথা। এখানেই শেষ নয়, কেন্দ্রীয় সরকার করোনাকালে কতটা উদাসীন ছিল তা নিয়ে তৃণমূলের বিস্তর অভিযোগ যেমন শোনা যায়। আবার করোনার জন্য দিল্লি থেকে পাঠানো টাকা তৃণমূল কংগ্রেস কিভাবে আত্মসাৎ করেছে তা নিয়ে প্রতিটা সভায় বলতে শোনা গেছে দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রত্যেককে। ফলে করোনা তরজা এখন জীবন্ত। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় করোনার প্রভাব যে বাড়তে শুরু করেছে এই বিষয়ে কোন রাজনৈতিক দলকে টু-শব্দটিও করতে শোনা যাচ্ছে না। কারণ , মাস্ক ছাড়া প্রবেশ নিষেধ এ নিয়ম মানলে কার সভায় কত লোকের ভিড় এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হবে।

গত দু’দিনে সারাদেশে এক লক্ষের বেশি মানুষের করোনা ধরা পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত 24 ঘন্টায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ হাজার ছাড়িয়েছে। মাত্র দেড় মাসের মধ্যে দৈনিক সংক্রমণ ৯ হাজার থেকে  ৫৩ হাজারে পৌঁছেছে । গত ২৪ ঘন্টায় মারা গিয়েছেন ২৫৭ জন। ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্রে নান্দের এবং বিড় শহরে স্থানীয়ভাবে লকডাউন করতে হয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এপ্রিলে দ্বিতীয়ার্ধে ভারতে করোনার প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছবে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রায় ২৫ লক্ষ ভারতবাসী করোনা সংক্রামিত হবেন। প্রায় ১০০ দিন চলবে এই পরিস্থিতি। শুধুমাত্র স্থানীয়ভাবে লকডাউন করে সংক্রমণে লাগাম পরানো যাবে না। এর জন্য দরকার ব্যাপকভাবে টিকাকরণ আর সর্তকতা।

গোটা দেশের পাশাপাশি কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনাতেও বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। আমজনতা থেকে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই সচেতনতার অভাব এর জেরে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকারে আছড়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here