আমফানের ফলে কৃষিক্ষেত্রে কি প্রভাব পড়তে পারে? জানালেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ

0

শুভজিৎ মিত্র: ঝড়কে আমি করব মিতে, ডরব না তার ভ্রুকুটিতে……..ঋতু বৈচিত্রেও রবি ঠাকুর জায়গা করে নিয়েছে আম বাঙালির মণিকোঠায়। বাংলা সাহিত্যে একদিকে যেমন জায়গা পেয়েছে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, তেমনই জায়গা পেয়েছে ভয়াল রূপ। এক বছর আগে আমজনতার ঘুম কেড়ে নিয়েছিল ফনি। শহরের রাস্তায় বাস চললেও ছিল না যাত্রী। ভর সন্ধ্যেয় শপিং মলের ঝাপ বন্ধ দেখে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই। মাল্টিপ্লেক্স, রেঁস্তোরা, পানশালা। চেনা ভিড় উধাও। একই অবস্থা ২০১৯-এর নভেম্বরেও। বুলবুলের আগমনে ২০০৯ এর আয়লার স্মৃতি ফিরেছিল উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে।

এবার অবশ্য এই ধরনের চিত্রনাট্যের প্রেক্ষাপট ছিল অনেক আগে থেকেই। লকডাউনের সৌজন্যে মানুষের দৈনন্দিন কাজ থমকে গিয়েছে। তারমধ্যেই হাজির আমফান। বঙ্গোপসাগরে তৈরি ঘূর্ণিঝড়। লকডাউনে সৌজন্যে আর স্মার্টফোনের দৌলতে, সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার রসদ হতে যার খুব একটা বেশি দেরি হয়নি। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, থমকে যাওয়া বা বদলে যাওয়া কৃষিক্ষেত্রে এর কি প্রভাব পরতে পারে? কতটা প্রভাব পরতে পারে মূলধারার অর্থনীতিতে? অবশ্য সে কথা আমরা জানবো। কিন্তু তার আগে জানতে হবে, কি কারণে হয়ে থাকে এই ধরনের ঘূর্ণিঝড়।

পরিবেশের সাথে সাহিত্যের মেলবন্ধনে সিদ্ধহস্ত বিশিষ্ট পরিবেশবিদ অধ্যাপক পৃথ্বীশ কুমার রায়। মনসা মঙ্গল হোক কিংবা ঠাকুর বাড়ির গল্প কথা। ঝড়ের উপস্থিত সব জায়গাতেই সমান ভাবেই বিদ্যমান। তার মতে, মূলত বঙ্গোপসাগরের জলতলের উষ্ণতার তারতম্যের জন্য সৃষ্টি হয় এই ধরনের ঘূর্ণিঝড়। এই উষ্ণতার পার্থক্য গোটা পৃথিবীর জলবায়ুর সাথেই সম্পর্কিত। মোটামুটি ভাবে যা প্রায় ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উষ্ণতার তারতম্যের কারণ অনুসন্ধানে অনেক সময়ই উঠে আসে, দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের বাসিন্দা এল নিনো এবং লা নিনা র কথা। প্রচ্ছন্ন রূপকথার এই দুই চরিত্র আদপে পরিবেশেরই দুই রূপ।

দুষ্টু এল নিনোর হাত ধরে আসা প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রাথমিক ভাবে অজ্ঞাত কারণেও হয়ে থাকে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি ঘূর্ণিঝড় সরাসরি প্রভাব ফেলে মৌসুমি বায়ু চলাচলের উপরেও। যার ফলে তরান্বিত হতে পারে মৌসুমির আগমন। সাধারণ ভাবে চলতি বছরে পর্যাপ্ত পরিমানে বৃষ্টি হবে বলে আশাবাদী অধ্যাপক রায়। তবে আমফান মৌসুমি বায়ু চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, তা বোঝা যাবে ঝড়ের পরেই।

ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়ান মিটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ নিয়ম মেনে দেশে মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটবে। বৃষ্টিপাতও হবে স্বাভাবিক হারেই। কৃষি ভারতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশাবাদী নীতি আয়োগের সদস্য ডক্টর রমেশ চন্দ্র। কিন্তু বর্ষার আগেই আমফানের আগমন সব হিসেব উল্টে দিতে পারে বলেও মনে করেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। আকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির পরিমাণ খুব একটা কম হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here