বিদ্রোহী কবির আজ ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী, বাঙালির স্মরণে-মননে আজও রয়েছেন নজরুল

0

পায়েল ভড় : আমৃত্যু গেয়েছিলেন মানবতার জয়গান, প্রতিবাদ করেছেন সমস্ত অন্যায়ের তার সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে। দাসত্বের শৃঙ্খলে বদ্ধ জাতিকে শোষণ ও উৎপীড়ন থেকে মুক্ত হবার ডাক দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘বল বীর বল উন্নত মম শির,…যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবে না -বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত, আমি সেই দিন হব শান্ত!’ হ্যাঁ আজ সেই দিন যেদিন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, অর্থাৎ আজ তার মৃত্যুবার্ষিকী (১২ ই ভাদ্র)।

১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম যার গান ও কবিতা যুগে যুগে বাঙালির জীবন সংগ্রাম ও স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরণার উৎস হয়ে কাজ করেছে, তিনি জন্মেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের এক দরিদ্র পরিবারের দুখু মিয়া হয়ে। আর মৃত্যুকালে তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবি। মাঝে ৭৭ বছর জুড়ে ছিল সৃষ্টি ও সৃজনশীলতার এক বিশাল ইতিহাস।

কাজী নজরুল ইসলাম বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক, যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী এবং অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জন্ম নেওয়া এই কবি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি। প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তাঁর লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন।তাই এই মহান কবির জন্য রইল অনেক ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা।

তাই এই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সব আনুষ্ঠানিক আয়োজন বন্ধ থাকলেও জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবসে কিছু আয়োজন থাকছে। কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে।

বাংলা একাডেমি আজ সকাল ১১টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনারকক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। একক বক্তব্য দেবেন এ এফ এম হায়াতুল্লাহ।নজরুল ইনস্টিটিউট সকাল ১০টায় আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here