নারদকাণ্ডে মির্জার গ্রেফতারিতে প্রতিক্রিয়া দিলীপের

0

বহরমপুর: নারদকাণ্ডে গ্রেফতার করা হল আইপিএস এসএমএইচ মির্জাকে। এই প্রথম নারদকাণ্ডে সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার করা হল কেউ। এদিন আদালতে অভিযুক্তকে ৫ দিনের জন্য হেফাজতে চায় সিবিআই। এরপরই আদালত জানায়, আগামী ৩০ শে সেপ্টেম্বর অবধি মির্জা সিবিআই হেফাজতে থাকবেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে মির্জার গ্রেফতারী প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘নারদকাণ্ডে তদন্ত শুরু হয়েছে৷ কিন্তু যিনি এই ষ্টিং অপারেশন করেছিলেন তাকে পুলিশ বারবার ডেকে জিজ্ঞাসা করেছে, আর তাকেই অপরাধী সাজানো হয়েছে৷ কিন্তু যারা টাকা নিয়েছেন তাদের কাউকে ডাকেনি এখনও পর্যন্ত।’’

দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ‘‘আমরা তার দাবি করেছিলাম এবং কোর্টে গিয়েছিলাম৷ আজকে সিবিআই ডেকেছে এবং গ্রেফতার করেছে৷ আগামী দিনে বিভিন্ন রকম সত্য সামনে আসবে। মির্জা বলেছিলেন আমি পার্টির জন্য টাকা নি, সত্যতা কি মানুষ তা জানতে চায়৷ এত বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে তার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হতাশ হয়ে গেছেন। সিবিআই ঠিক দিকে যাত্রা শুরু করেছে৷ সময়ের অপেক্ষা করুন, সত্যি সামনে আসবে।’’

এদিন আদালত থেকে বেরিয়ে এসএমএইচ মির্জাকে ফের নিজাম প্যালেসে নিয়ে যান সিবিআই আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবার গ্রেফতারির পরই তাঁর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। দুপুর তিনটে নাগাদ তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যাঙ্কশাল কোর্টে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিচারপতির এজলাসে তাঁর মামলার শুনানি শুরু হয়। বিকেল পৌনে পাঁচটা নাগাদ সেই মামলার রায়দান করেন বিচারপতি। মির্জার গ্রেফতারির সঙ্গে সঙ্গে আদালতে উপস্থিত হন তাঁর তরফের সকল আইনজীবীরা।

স্টিং অপারেশনের সূত্র ধরেই তাঁর উপর নজরদারি চলেছিল বলে জানায় সিবিআই। বিগত কয়েকদিন ধরেই নারদাকাণ্ডে চলছিল ভয়েস স্যাম্পেল সংগ্রহ করার কাজ। মির্জার কন্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের পরই তাঁকে এদিন গ্রেফতার করা হয়।

সিবিআই সূত্রে খবর, এর আগে তাঁকে ৯ বার ডাকা হয়েছিল। ৯ বারই তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তদন্তে সহযোগিতা করেন নি এসএমএইচ মির্জা। তাই এবার তাঁকে রিম্যান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সিবিআই আরও জানায়, নারদাকাণ্ডের টাকা নেওয়ার সময় এই আইপিএস অফিসার অন্য কারো সাথে ফোনে কথা বলছিলেন। তাঁকে একাধিকবার সে কথা জিজ্ঞেস করা হলেও তিনি সেই প্রশ্নের উত্তর দেন নি। আর তাই

সিবিআই সূত্রে খবর, তিনি টাকা নেওয়ার সময় কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথেই কথা বলছিলেন, যাকে তিনি এখনও আড়াল করার চেষ্টা করছেন।

তবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের বিশ্বাস, তাঁকে রিম্যান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই সেই প্রভাবশালী ব্যক্তি সম্পর্কে তাঁরা কিছু আভাস পেতে পারেন।