প্যান্টালুনস এর বিক্ষোভে কর্মী এবং বাংলা পক্ষ’র জয়

0
pantaloons protest

কলকাতা: ২০১৯ সালের ১৫ই আগস্ট হাওড়ার অবনীমলের প্যান্টালুনস এর কর্মী মনোজ বাঙাল এর সাথে বচসা হয় সেখানকার ষ্টোর ম্যানেজারের। মনোজ ওই দিন ইংরেজি গানের পরিবর্তে দেশাত্মবোধক গান বাজানোর অনুরোধ করেছিলেন। সেই বিষয় নিয়ে ব্যাপক বচসা হয়।

স্টোর ম্যানেজার বলেন, গান বাজানোর সিস্টেম ব্যাঙ্গালোর থেকে পরিচালনা করা হয়, অতএব এই বিষয়ে তার কিছু করার নেই। মনোজ এর বক্তব্য ছিল, অফার এবং অন্যান্য সময় যে মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয়, ইচ্ছে থাকলে সেটা দিয়েও গান বাজানো সম্ভব। তারপর স্টোর ম্যানেজারের সাথে মনোজ এর বচসা হয়। ম্যানেজারের পক্ষ থেকে বলা হয় তাকে, ‘নির্লজ্জ’ এবং ‘বেহায়া’ বলা হয়েছে ক্রেতার সামনে।

এই ঘটনার পর মনোজকে শো কজ নোটিশ দেওয়া হয়। এবং এই বিষয়ক পরবর্তী পদক্ষেপ চলতে থাকে।
শুধু মনোজ নন, এর পর প্যান্টালুনস এর আরো দুই কর্মীকে ছাঁটাই করার নোটিশ ধরানো হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে কর্মীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদ করার জন্যেও আবার নতুন করে কয়েকজন কর্মীকে ছাঁটাই এর নোটিশ দেওয়া হয়।  এর পর, কর্মী বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করে। প্যান্টালুনস এর বিভিন্ন স্টোরে তারা ধর্ণা শুরু করেন।

কর্মীদের দাবি ছিল, ছাঁটাই করা মোট ২৫ জনকে কাজে ফিরিয়ে নিতে হবে।যে কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়েছিল তাদের বেশিরভাগই ৮-১০ বছর ধরে সেখানে কাজ করেন। বেতনের পরিমানও খুব বেশি নয়। ফলে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে থাকে তাদের পরিবারের উপর।  বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করলে, তৃণমূল,সিপিআইএম,কংগ্রেস এবং বিজেপি নেতৃত্ব এই কর্মীদের পাশে দাঁড়ায়।

কর্মীরা বাংলা পক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে এই আন্দোলনে তারাও শামিল হন। বাংলা পক্ষের তরফ থেকে কৌশিক মাইতি প্রশ্ন করেছেন, ”ওই কোম্পানিতে ৬০ শতাংশ অবাঙালি এবং প্রায় ৪০ শতাংশ বাঙালি কাজ করে। কিন্তু ছাঁটাই এর সময় ৯০ শতাংশ বাঙালি কেন?”

তিনি বলেছেন, “ওই স্টোরগুলিতে ‘নমস্কার’ বলতে বারণ করা হয়, তার পরিবর্তে তাদের ‘নমস্তে’ বলার আদেশ দেওয়া হয়। বাংলার মাটিতে এইভাবে বাঙালি এবং বাংলা ভাষার সাথে অন্যায় বরদাস্ত করা হবেনা।”

কৌশিক বলেছেন, গতকাল তাদের বাংলা পক্ষের সহযোদ্ধারা প্যান্টালুনস এর স্টোরে ব্যাপক প্রতিবাদ করেন। এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। তারা লিখিত প্রতিশ্রুতি না দিলেও এই ২৫ জন কর্মীকে কাজ ফিরিয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। কৌশিক মাইতি বলেছেন, ‘এটা বাংলা পক্ষের বড় জয়।’