“শুভেন্দু আপনাদের সঙ্গে কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করবে না”, তৃণমূলের নাম ও নিশানা ছাড়াই সভা শুভেন্দুর

0

মেদিনীপুর : ২০২১-এর নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে তত যেন শুভেন্দুকে নিয়ে জল্পনা বেড়ে চলেছে। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ফের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগেই তাঁর বিজেপিতে যোগদান সম্পর্কে জোর জল্পনা শুরু হয়। তারপর কড়া বার্তা দেন তিনি। কিন্তু ফের একের পর এক ঘটনা শুভেন্দুকে নিয়ে রাজনৈতিক সেই জল্পনার পারদ বাড়িয়েই চলেছে।

এদিকে দলে রদবদলের পর থেকে তৃণমূলের নামই নিচ্ছেন না শুভেন্দুবাবু। এই ছবি দেখা গেল প্রণব-স্মরণ অনুষ্ঠানে। ঘটা করে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির স্মরণসভা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এ অনুষ্ঠান যেন শুধু তাঁরই, কোথাও কোনও নাম নেই তৃণমূলের! এমনকি গোটা অনুষ্ঠানে একবারও তৃণমূলের নাম নিতে শোনা গেল না তাঁকে।

মঙ্গলবার ফের একবার সকলের সামনে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানান। শুভেন্দু ভাষণও দেন, কিন্তু একবারও সেখানে তৃণমূলের নাম উচ্চারণ করলেন না! শুভেন্দু প্রণব-স্মরণ অনুষ্ঠান করলেন তাম্রলিপ্ত জনকল্যাণ সমিতির ব্যানারে। তাম্রলিপ্ত জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি শুভেন্দু তৃণমূলের ব্যানারে এই অনুষ্ঠান করেননি। এদিন শুভেন্দুর অনুষ্ঠানস্থল ভরা ছিল তেরঙ্গা পতাকায়। কিন্তু সেই তেরঙ্গা পতাকায় কোথাও নাম ছিল না তৃণমূলের। তৃণমূলের প্রতীক ছিল না। তাঁর ভাষণও এদিন ইঙ্গিতবহ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। 

ফাইল ছবি

শুভেন্দু এদিন প্রণব-স্মরণে বলেন, “সেদিন প্রণববাবু আমার কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন, আমি আপনাদের এটুকু বলতে এসেছি, আমার উত্থান সতীশ সামন্ত, সুশীল ধাড়ার হাত ধরে, আমি শুভেন্দুকে দিয়ে গেলাম তমলুকের মানুষের কাছে। শুভেন্দুকে আপনারা জেতান, শুভেন্দু আপনাদের সঙ্গে কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। তারপর তমলুকের মানুষ আমাকে দু-হাত ভরে আশীর্বাদ করেছিলেন।” এছাড়া আরও নানা কথা বললেন প্রণববাবু স্মৃতি-তর্পণে। উঠে আসে তাঁর কংগ্রেস সদস্য হওয়ার কথা। অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন কেলেঘাই-কপালেশ্বরী প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের কথা। প্রণববাবুর আত্মজীবনীতে শুভেন্দুর নাম উল্লেখের কথা।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে তমলুক থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন শুভেন্দু। লক্ষ্মণ শেঠকে হারিয়ে তিনি সংসদে পা রেখেছিলেন। এদিন নিমতৌড়ির সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই জয় স্মরণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, সেদিনের সেই জয়ে প্রণব মুখোপাধ্যায় বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন। এই নির্বাচনে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট গড়ে লড়েছিল। সে বছর তৃণমূলের শুভেন্দুর হয়ে সভা করতে গিয়েছিলেন তৎকালীন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের অন্যতম প্রণব মুখোপাধ্যায়। প্রণববাবুর সেই সভার কথা এদিন বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করে শুভেন্দু আরও একবার জল্পনাকে উস্কে দেন। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে চর্চাও শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here