মনীষী নিয়ে টানাটানি! স্বামীজীর জন্মতিথিতে ‘বিজেপির মুখে রাম, কর্মে নাথুরাম’ বলে কটাক্ষ অভিষেকের

0

কলকাতা : দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। প্রস্তুতি পর্ব তুঙ্গে রাজনৈতিক শিবিরে। সেই সূত্রেই বাংলায় মনীষীদের নিয়ে টানটানি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। ব্যাতিক্রম গেলনা স্বামীজির জন্মদিনও। বিবেকানন্দের ১৫৮তম জন্মতিথিতে, কলকাতার রাস্তায় দাপিয়ে বেরালো ঘাসফুল ও পদ্ম শিবির। উদ্দেশ্য, ভোটের প্রচারের মাধ্যমে বঙ্গবাসীকে মনীষীপ্রীতি প্রদর্শন।

স্বামীজির জন্মদিন উপলক্ষ্যে উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার থেকে স্বামীজির জন্মস্থান সিমলা ষ্ট্রিট পর্যন্ত মিছিল করেন মুকুল রায়, রাহুল সিনহা, দিলীপ ঘোষ, স্বপন দাশগুপ্ত, সব্যসাচী দত্তরা। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল সদ্য দলবদল হওয়া নেতা শুভেন্দু অধিকারীর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বদলায় শুভেন্দু কর্মসূচি। চলে যান দুর্গাপুরে অন্য এক কর্মসূচীতে যোগদান করতে। যদিও সকাল বেলা সিমলা ষ্ট্রিটে স্বামীজির জন্মস্থানে বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে গিয়েছেন তিনি।

একইদিনে স্বামীজির জন্মদিন উপলক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পালটা মিছিল করে তৃণমূল যুব কংগ্রেস। স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিনে প্রথমে স্বামীজির বাসভবনে গিয়ে মাল্যদান করেন তিনি। তারপর দক্ষিণ কলকাতার গোলাপার্ক থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত বিশাল মিছিল করলেন তৃণমূল সাংসদ তথা যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যা স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির মিছিলকে ছাপিয়ে গিয়েছে। আর মিছিল শেষে বিজেপিকে রীতিমতো তোপ দাগলেন তিনি। যদিও তৃণমূল বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে দৈনন্দিন রাজনীতিতে স্বামী বিবেকানন্দকে ব্যবহার করার অভিযোগে এনেছেন। তৃণমূলের বক্তব্য, বিবেকানন্দের ভাবনাকে বিকৃতভাবে ছড়িয়ে দিতে চাইছে বিজেপি।

এদিন অভিষেক বলেন, “যারা বিবেকানন্দের নাম ঠিক ভাবে উচ্চারণ করতে পারে না, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে, যারা বলে বিদ্যাসাগর সহজপাঠ লিখেছে। তাদের আপনারা ক্ষমা করবেন? এই বিজেপির মুখে রাম, কর্মে নাথুরাম। মুখে বিবেকানন্দ, কর্মে ধর্মে ধর্মে দ্বন্দ্ব। এদের অধিকার নেই, বিবেকানন্দর ছবি নিয়ে মিছিল করার। স্বতঃস্ফূর্ততায় ওদের মিছিল ১০ গোল খেয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন করতে দেবে না বাংলা।”

এরপরই বাংলাকে বঞ্চনার ক্ষেত্রেও বিবেকানন্দ-নেতাজির প্রসঙ্গে তুলে আনেন অভিষেক। বলেন, “গুজরাতে ৩ হাজার কোটি খরচ করে বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তি। বাংলায় কেন ৩ হাজার কোটি খরচ করে স্বামীজি, নেতাজির মূর্তি হবে না? ২০১৪ সালে স্বামীজির ছবি নিয়ে যারা ভোট প্রচার করেছিল, ভোটে জয়ী হওয়ার পর তারা বেলুড় মঠকে মর্যাদা দেয়নি।”

পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মনীষীদের পথেই চলেছেন, তা রাজ্যবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন অভিষেক। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বামীজির দেখানো পথেই চলেছেন। এই লড়াইতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতবেন, কিন্তু দিল্লির কাছে আত্মসমর্পণ করবেন না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here